জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
আনন্দঘন শিক্ষা সফর
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৩, ১৭:৪৪
ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট ও সেমিনার উপস্থাপনার ব্যস্তময় মুহূর্ত। এই হল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জীবন। এগুলো শেষ করে আবার ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়ে বাসায়/মেসে যাওয়া। বিকেলে বন্ধুদের সাথে জম্পেশ আড্ডা। আড্ডার স্থানগুলোতে যেন ব্যতিক্রম নেই। সেই ক্যাম্পাস ফটক, শহীদ মিনার, ভাস্কর্য চত্বর, কলা ভবন, বিজ্ঞান অনুষদের মাঠ, বাহাদুর শাহ পার্ক, লক্ষ্মীবাজারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশ-পাশ চলে সন্ধ্যাভর আড্ডা। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে রাতে ক্লান্তি এসে জড়ো হয় শরীরে। পরের দিন টার্মটেস্ট থাকলে আবারো টুকটাক পড়াশোনা। এটাই বিশ্ববিদ্যালয়ের তারুণ্যময় জীবন। মাঝে মাঝে আবার এটা একঘেয়েমিতে রূপ নেয়। আর সেই একঘেয়েমি জীবনে কর্মচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ আয়োজন করে ব্যতিক্রমী সব শিক্ষা সফর। আর তাই নিজেদের চলতি জীবনে শীতের একটুখানি হিমেল পরশ ছড়িয়ে দিতে গত মাসের ৩ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের ৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আয়োজন করে বন্ধুত্বপূর্ণ শিক্ষা সফর। আর এ শিক্ষা সফরের গন্তব্যের তালিকায় ছিল রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, ছেড়াদ্বীপ। এসময় শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন নাসির আহমেদ, মামুনুর রশিদ, তানভীর আহমেদ, হাসান মুফিজুর রহমান ও শহীদ কাদের চৌধুরী।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সন্ধ্যায় সবার জড়ো হওয়ার কথা থাকলেও নিজেকে গুছিয়ে আসতে রাত ১০টা বেজে যায়। পরে হুড়মুড় করে ক্যাম্পাস থেকে বাসে উঠার সাথে সাথেই শুরু হয় এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের আনন্দ ভ্রমণ। তবে এর আগে শিক্ষাজীবনের শেষ বেলার স্মৃতিটি আঁকড়ে ধরতে বাদ যায়নি কেউ। সন্ধ্যার অন্ধকার ভেদ করে তাই নিজেদের গ্রুপ ছবি তোলার হিড়িক ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্যাম্পাস জীবনে যারা বাথরুম সিঙ্গার হিসেবে খ্যাত তারাও ‘আমিও পারি’ বলে নিজেকে জাহির করতে জোর গলায় বেসুরো সুরে জুড়ে দেয় জনপ্রিয় সব গান। যা বাসের ভেতর এক অন্যরকম পরিবেশের সৃষ্টি করে। এতে তাল মেলায় অন্য সহপাঠিরাও। আর তাইতো চিত্কার-চেঁচামেচি করতে গিয়ে অনেকে তাদের নিজস্ব সুরটিই সাময়িকের জন্য খুইয়েছেন।