পরমাণু বিদ্যুত্ প্রকল্প নিয়ে অস্বস্তিতে ভারত
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৩, ২০:৪৩
পরমাণু শক্তি ইস্যুতে ভারতে বাড়ছে অস্বস্তি। বিশেষ করে বেসামরিক পরমাণু প্রকল্পে এটা বেশি বাড়ছে। নতুন যেসব পরমাণু প্রকল্পের কাজ সরকার হাতে নিয়েছে, স্থানীয় লোকজনের প্রতিবাদে তার কাজ আপাতত স্থগিত। খবর ডয়চে ভেলের ।
ভারতে পরমাণু বিদ্যুত্ প্রকল্পের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক ইউকিয়া আমানোর পাঁচদিনের ভারত সফর তাত্পর্যপূর্ণ। তামিলনাড়ু মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে যেসব নতুন পরমাণু বিদ্যুত্ প্রকল্পের কাজ সরকার হাতে নিয়েছে, তার কাজ সেখানকার অধিবাসীদের বাধার কারণে তা এখন বন্ধ রয়েছে। আমানো ভারতের বিভিন্ন পরমাণু শক্তি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরমাণু কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তার নতুন মাপকাঠি এবং অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করবেন। কথা হবে ভারতের বিতর্কিত পরমাণু দায়বদ্ধতা ধারা নিয়ে। পরমাণু সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশগুলো ভারতের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ায় আন্তর্জাতিক পরমাণু চুল্লি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো এই ধারা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। চুল্লিতে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ বর্তাবে সরবরাহকারী কোম্পানির ওপর। উল্লেখ্য, ভারতে এখন ২০টি পরমাণু চুল্লি চালু আছে। আরো সাতটি বসানো হচ্ছে। ২০৩২ সাল নাগাদ ভারতে পরমাণু বিদ্যুত্ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু দেশটিতে এর বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের আন্দোলন সংগ্রাম ক্রমেই বাড়ছে। পরমাণু প্রকল্পের কাজ যেসব এলাকায় সরকার নিয়েছে সেখানকার লোকজনের বক্তব্য তারা এ নিয়ে যথেষ্ট নিরাপত্তা উদ্বিগ্নতায় আছেন। বিশেষ করে জাপানের ফুকুশিমা পরমাণু কেন্দ্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনা তাদের এই ভীতিকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। তামিলনাড়ুর আন্দোলনকারীরা মনে করেন, পরমাণু কেন্দ্রের বর্জ্য পদার্থ সমুদ্রের পানিতে মিশলে উপকূলবর্তী মত্স্যজীবীদের রুটি-রোজগার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মহারাষ্ট্রের আন্দোলনকারীদের মতে, বর্জ্য পদার্থে উপকূলের ম্যানগ্রোভ বিনষ্ট হবে। জীববৈচিত্র্য তথা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে।