খুলনায় পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মিছিল সমাবেশ
যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করুন
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৩, ২১:১৮
যতদনি পর্যন্ত বিচারে যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড ও দল জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা না হবে ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখার শপথ নিয়েছে জনতা। সোমবার দুপুরে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হাজার হাজার মানুষ এ শপথ গ্রহণ করেন।
শপথবাক্য পাঠ করায় শিশু সীমন্তি। ছোট্ট এই শিশু মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে শহীদ মিনারের বেদীতে দাঁড়িয়ে ডান হাত মুষ্টিবদ্ধ করে সকলকে শপথ পড়ায়। জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে শপথ শেষ হয়। পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ খুলনা জেলা শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে। পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ এ কর্মসূচির আয়োজন করলেও ব্যানারের কোথাও তাদের নাম ব্যবহার করা হয়নি। অন্য কোন সংগঠনের ব্যানার, মিছিলও অনুষ্ঠানে ছিল না।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে নগরীর শিববাড়ী মোড়ে ‘ঘৃণা মিছিলে’ যোগ দিতে খুলনার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নানা বয়সী শত শত মানুষ জড়ো হন। ট্রাকের ওপর ভ্রাম্যমাণ মঞ্চে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা একের পর গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন। বেলা ১১টায় জাতীয় সংঙ্গীতের পর শুরু হয় ঘৃণা মিছিল। বিশাল এ মিছিল নগরীর শিববাড়ী থেকে শুরু হয়ে শহীদ হাদিস পার্কে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। মিছিলে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে প্লাকার্ড, ফেস্টুন এবং মুখোশ দেখা যায়।
মিছিল ও শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পরিষদের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েকউজ্জামান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ খুলনা জেলা কমান্ডের আহ্বায়ক সরদার মাহবুবার রহমান, মহানগর কমান্ডের আহ্বায়ক অধ্যাপক আলমগীর কবীর, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি প্রকৌশলী লিয়াকত আলী শরীফ, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান, ছাত্রলীগের মহানগর সভাপতি দেব দুলাল বাড়ৈ বাপ্পী ও জেলা সভাপতি আরাফাত হোসেন পল্টুসহ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মী, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মী সমর্থক, পূজা উদযাপন পরিষদ এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। পুরুষের পাশাপাশি মিছিলে শিশু ও নারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত।