প্রশান্ত কর্মকারের শিল্পকর্মে গণমানুষের প্রতিচ্ছবি

বাঙালির সংগ্রামকে এক ভিন্ন মাত্রায় তুলে ধরেছেন শিল্পী প্রশান্ত কর্মকার বুদ্ধ। ধানমন্ডির গ্যালারি শিল্পাঙ্গনে ‘ভাষা আন্দোলন থেকে ২০১৩’ শিরোনামে আয়োজিত শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে বাংলা ভূ-খণ্ডের জনমানুষের প্রতিটি সংগ্রাম যেন এক হয়ে গেছে শিল্পীর ক্যানভাসে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বর্তমানের শাহবাগ আন্দোলন হয়ে উঠেছে অধিকার আদায়ের, অন্যায়ের প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠা জনগণের দৃপ্ত চিত্রায়ন। লাল সবুজ পতাকা, কংক্রিটের সাদা-কালো শহীদ মিনারে বর্ণিল অক্ষরগুলো বাঙ্ময় হয়ে ধরা দেয় দর্শকের হূদয়ে। শিল্পী প্রজন্ম চত্বরে মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে সেই স্বাক্ষরগুলো নিয়েও সৃষ্টি করেছেন কোলাজধর্মী শিল্পকর্মের। তাই প্রজন্মের জাগরণ এক ভিন্ন মাত্রায় ধরা দেয় শিল্পীর ক্যানভাসে। প্রজন্ম চত্বরে আসা হাজারো মানুষের স্বাক্ষর, শাহবাগ থেকে দিগন্ত ছাড়িয়ে যাওয়া জনতার ঢল — এক নতুন জাগরণের বার্তা দেয়। যে আহ্বান যুগে যুগে জানিয়েছে শিল্পীরা — তাদের কাজে, কথায়, গানে। সে জন্যই তার ছবির শিরোনামগুলো আভাস দেয় বর্তমানের প্রত্যাশার। ‘জাগ্রত লক্ষ’, ‘জাগ্রত প্রজন্ম’, ‘প্রজন্মের শপথ’, ‘প্রজন্মের স্বাক্ষর’ — এসব শিরোনামের শিল্পকর্মগুলো এ প্রজন্মের জাগরণের কথাই তুলে ধরছে। শিল্পী প্রশান্ত কর্মকার সিল্ক-স্ক্রিন প্রিন্ট ও মিশ্র মাধ্যমে ইতিহাসের এসব কোলাজকে পেইন্টিং-এর আদলে তুলে ধরেছেন। ক্যানভাসে যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে দীর্ঘ স্ক্রল প্রিন্ট। গত শনিবার বিকালে প্রধান অতিথি হিসাবে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার মোহাম্মদ জমির, বিশেষ অতিথি ছিলেন ফয়েজ সোবহান। সভাপতিত্ব করেন কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শিল্পী প্রশান্ত কর্মকার বুদ্ধ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিল্পাঙ্গন গ্যালারির পরিচালক রুমী নোমান। প্রদর্শনীতে ৩৩টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। চলবে ২০ মার্চ পর্যন্ত। এটি শিল্পী প্রশান্ত কর্মকারের ১৩তম একক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। এছাড়াও প্রদর্শনীতে ওঠে এসেছে ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বেশ কয়েকটি ছবি। আরও আছে মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন ও গণহত্যার ছবি। আছে শাহবাগ গণজাগরণকে নিয়ে ৪টি চিত্রকর্ম। এই চিত্রকর্মে শিল্পী প্রশান্ত কর্মকার বুদ্ধ তুলে ধরেন শাহবাগের তারুণ্যময় জাগরণ, স্বাক্ষর ও শ্লোগানমুখর আন্দোলন।