কাউন্সিল বন্ধ করতেই হরতাল ডেকেছে বিএনপি :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৩, ২২:২৫
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, নিজেদের ডাকা কাউন্সিল বন্ধ করতেই এ অনৈতিক হরতাল আহ্বান করা হয়েছে। খালেদা জিয়া আংশকা করেছেন কাউন্সিলে তরুণ প্রজন্ম যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে। আর সে কারণেই বিএনপি কাউন্সিল বন্ধ করতে হরতাল ডেকেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে রায়ের বাজার জাতীয় শহীদ স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির কাউন্সিল সম্পর্কে একই কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু।
আগামী ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও সোমবার রাতে তা স্থগিত করা হয়। বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, বিএনপিসহ ১৮ দল হরতাল আহ্বান করে ঘরে বসে আছে। হরতালের নামে বোমা ফেলা বা বোমা মজুদ করলে দেশের প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান, নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা যৌক্তিক কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দুষ্কৃতকারীদের প্রতিহত করতে বা গ্রেফতার করতে দেশের যেকোনো জায়গায় যাওয়ার বা প্রবেশ করার অধিকার রাখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক গোষ্ঠী হরতালের নামে বোমা মজুদ করা কিংবা বোমা ফেলার অধিকার রাখে না। তেমনটি করলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। দরজা ভেঙ্গে পুলিশের অভিযানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওখানে যদি দরজা বন্ধ করে বোমা মজুদ করে রাখেন, পুলিশ কী করবে। তাদের অধিকার রয়েছে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার।
পুলিশের হাতে আটক হওয়ার ১৯ ঘণ্টা পর মুক্তি দেয়া হয় ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাদেক হোসেন খোকা ও আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে ১৮-১৯ মার্চ হরতাল করা হবে। এ ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, ‘যতই আল্টিমেটাম দেয়া হোক দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
হস্তান্তর করা জমি ফিরে পাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন
এদিকে, রায়ের বাজার জাতীয় শহীদ স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থান উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ৯৬ দশমিক ২৩ একর জমির মধ্যে র্যাব-২ এর অধিগ্রহণ করা ৬ দশমিক ১৩ একর জমি উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করা হবে। এর পরিবর্তে প্রকল্পের দক্ষিণে রাস্তার পাশে সমপরিমাণ জমি এওয়াজ বদল (এক স্থানের ভূমির বদলে অন্য স্থানে ভূমি দেয়া) করা হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকও করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও নির্দেশনায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (বিলুপ্ত ডিসিসি) প্রকল্প এলাকায় ৯৬ দশমিক ২৩ একর ভূমিতে ৮০ হাজার ৫০০টি কবরসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিয়ে একটি কবরস্থান উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি গত বছর ২২ মার্চ একনেকে অনুমোদন পায়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক, স্বরাষ্ট্র সচিব সি কিউ কে মুস্তাক, এলজিআরডি সচিব আবু আলম খান শহিদ ও র্যাব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের প্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল আহসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।