পাঁচ প্রশ্ন
মিলন
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৩, ১৮:৫৪
একজন গুণী অভিনয়শিল্পী হিসেবেই আনিসুর রহমান মিলন দর্শকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তার শুরুটা মঞ্চের ধুলো মেখেই। নিজের অভিনয় দক্ষতায় দর্শকদের সামনে নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন এই অভিনেতা। শুরু থেকেই অভিনয় করছেন নানা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে। প্রতিটি চরিত্রেই নিজেকে ভেঙে আবার গড়েছেন, এর মাধ্যমেই চরিত্রের সঠিক তত্ত্ব তুলে ধরেছেন দর্শকদের সামনে। নানা ধরনের চরিত্রে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নেওয়া এই গুণী শিল্পী এবার মুখোমুখি হয়েছেন আমাদের পাঁচ প্রশ্নের। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
কেমন যাচ্ছে আপনার সময়টা?
ব্যক্তিগতভাবে পজেটিভ কিন্তু সামষ্টিকভাবে একটু জটিল। আমার ক্যারিয়ারের পুরোটা সময়ই আমার জন্য পজেটিভ। কেননা আমি আগেও যেমন কাজ করেছি এখনও ঠিক তেমনই কাজ করে চলছি। কিন্তু বর্তমান দেশে বিদ্যমান পরিস্থিতি আমাকে অনেকটা বিমর্ষ করে তুলছে। এই পরিস্থিতির অনেকাংশে আমাদের শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবনেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। সময়ই মানুষকে বলে দেয়, কোন দিকে যেতে হবে। হয়তো এই সংকটময় পরিস্থিতি একদিন সহজভাবেই শেষ হবে।
বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে?
আমি আসলে বরাবরই নিজেকে দেখতে চেয়েছি ভালো কাজের একজন অভিনেতা হিসেবে। বর্তমানে কাজের ব্যস্ততা একটু বেশি। একক ও ধারাবাহিকে কাজ করছি সমান গতিতে। এ ছাড়া ‘সোয়াচান পাখি’, ‘দেহরক্ষী’ ছবির পর সম্প্রতি নায়ক হিসেবে তৃতীয় ছবিতে অভিনয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। ছবির নাম ‘পোড়ামন’। ছবিটি পরিচালনা করছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জাকির হোসেন রাজু। ছবিতে আমার চরিত্র প্রতিবাদী পুলিশ অফিসারের। আমার এ যাবত্কালের ভিন্ন ধরনের উপস্থাপন দিয়ে ছবিটিতে অভিনয় করব। পরিচালকের সাথেও আমার ভাবনা সম্পূর্ণ মিলে গেছে। সে ধরনের একটা কিছু করার অপেক্ষায় আছি।
কোন ধরনের নাটকে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
অভিনয়ের সুযোগ রয়েছে এমন যেকোনো চরিত্রেই অভিনয় করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কেননা আশপাশের চেনা সকল চরিত্রগুলোকেই পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে আমি পছন্দ করি। আর বর্তমানে আমাদের স্ক্রিপ্টের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। এখন আর নির্দিষ্ট প্রেম-ভালোবাসার মধ্যে আমাদের নাটক আটকে নেই। জীবন ঘনিষ্ঠ নানা চরিত্রেই অভিনয়ের দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। আমি নায়ক হওয়ার চেয়ে বরাবরই চেয়েছি সু-অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে। দর্শকদের সামনে তাদের দৈনন্দিনের চরিত্রগুলোকেই আমি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি।
নাটকের মাঝে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন দেখানো সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই।
আসলে উত্তরে অনেকটাই স্ববিরোধী হয়ে যায় তারপরও বলছি, আমাদের দেশের নাটকের গল্পগুলো বাহিরের দেশের থেকে অনেক ভালো। আমাদের কাজে অনেক সৃজনশীলতা রয়েছে কিন্তু তারপরও আমাদের এখানে নাটকে এত বিজ্ঞাপন দেখায় যে নাটকের কথা দর্শক বেমালুম ভুলে যায়। আমাদের মিডিয়ায় বরাবরই বাহিরের দেশের মিডিয়াকে বেশি ফলো করে। কিন্তু নাটকে বিজ্ঞাপনের বেলায় আমরা বাইরের দেশগুলোকে ফলো করি না। অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের ফলে নাটকের স্বকীয়তা নষ্ট হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমনটাই আসা করছি।
আপনার নাগরিক আনন্দ-বেদনা কতটুকু?
একজন নাগরিক হিসেবে বর্তমানে আমরা মনে হয় কিছুটা অগোছালো একটি অবস্থায় আছি, দেশের অস্বাভাবিক অবস্থার প্রভাব আমরা সকলেই কমবেশি ভোগ করি। এই অবস্থা কাটাতে আমাদের উচিত নিজেদের অবস্থান থেকে দেশের প্রতি সঠিক দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করা। একজন দেশের নাগরিক হিসেবে অবশ্যই দেশের কাছে আমারও কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা আছে। কারও জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরা নিজেদের দায়িত্ব যদি সত্ ও সঠিকভাবে পালন করি তাহলে সমাজে কোনো সমস্যাই থাকবে না।