মিউজিক

সিক্স ফিট আন্ডার

ব্যান্ডটার নামটা যেন একটু অদ্ভুত—‘সিক্স ফিট আন্ডার’! শুরু থেকেই শ্রোতাদের নানা ধরনের গান দিয়ে মাতিয়ে চলেছে অদ্ভুত নামধারী এ ডেথ মেটাল ব্যান্ডটি। তবে তাদের গান শুনলেই বোঝা যায় যে নামের সাথে তাদের কাজেরও মিল রয়েছে। শ্রোতাদের গান দিয়ে গভীর অনুভূতির কেন্দ্রে নিয়ে যায় তারা। হালের ক্রেজ এই ব্যান্ডটির কথা লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম সিক্স ফিট আন্ডার একটি আমেরিকান ডেথ মেটাল ব্যান্ড যা ১৯৯৩ সালে পথচলা শুরু করে। ব্যান্ডটি আসলে ক্যানিবাল করপস ব্যান্ডের ভোকাল ক্রিস বার্নেস ও ওবিচুয়ারি ব্যান্ডের গিটারিস্ট এ্যালেন ওয়েস্টের একটি সাইড প্রজেক্ট। তারা যখন শুরু করেন তখনও ভাবেননি এভাবে ব্যান্ডটি নিয়ে এগিয়ে যাবেন তারা। পরে বেজিস্ট টেরি বাটলার (ম্যাসাকার ও ডেথ ব্যান্ডে ছিলেন) ও তার শ্যালক গ্রেগ গল সিক্স ফিট আন্ডারে যোগ দেন। এই ব্যান্ডটি নয়টি অ্যালবাম প্রকাশ করে যা তাদের আমেরিকার চতুর্থ সর্বাধিক বিক্রিত ব্যান্ডের সম্মান এনে দেয় এবং ৩৭০,০০০ কপি অ্যালবাম বিক্রি হয়। পথচলার শুরু সিক্স ফিট আন্ডার প্রথমে ১৯৯৩ সালে বিভিন্ন ক্লাবে অন্য ব্যান্ডের গান করত। পরে ১৯৯৪ সালের মাঝামাঝিতে তারা নিজস্ব গানের ব্যাপারে কাজ করতে থাকে। যেহেতু ক্রিস বার্নেস ক্যানিবাল করপস ব্যান্ডের মাধ্যমে মেটাল ব্লেড রেকর্ডসের সাথে চুক্তিবদ্ধ, তাই সিক্স ফিট আন্ডারও মেটাল ব্লেড রেকর্ডসের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৫ সালে সিক্স ফিট আন্ডারের প্রথম অ্যালবাম ‘হন্টেড’ প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায় তাদের গানে দীর্ঘ সময়ের গিটার একক নেই এবং গানের কথাও জটিল না। তাদের এ ধরনের কাজ সমালোচক মহলে প্রশংসিত হয়। ক্রিস বার্নেস ধীরে ধীরে সিক্স ফিট আন্ডারকে প্রথম পছন্দের তালিকায় নিয়ে আসেন। ১৯৯৬ সালে ভাইল অ্যালবামটি রেকর্ডের সময় তিনি ক্যানিবাল করপস ব্যান্ডের পাট চুকিয়ে ফেলেন। সিক্স ফিট আন্ডারের ‘ওয়ারপাথ’ ১৯৯৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। এই অ্যালবামে তারা হলোকাস্ট ব্যান্ডের ‘ডেথ অর গ্লোরি’ গানটি কাভার করে ও ৪:২০ নামের একটি গান করে, যেখানে ক্রিস বার্নেসের পরিষ্কার গলার আওয়াজ ও গানের প্রতি তার ভালোবাসা প্রকাশ পায়। তাদের ‘থার্ড’ অ্যালবাম ম্যাক্সিমাম ভায়োলেন্স সারা বিশ্বে প্রায় ১০০,০০০ কপি বিক্রি হয়, যা ছিল অপ্রত্যাশিত একটি ব্যাপার সে সময়ে। কারণ ১৯৯০ দশকের শেষের দিকে ডেথ মেটাল ছিল একটি মৃতপ্রায় সংগীতধারা। ২০০০ সালের গ্রীষ্মে সিক্স ফিট আন্ডার ‘ভান্স ওয়ারপড ট্যু’র নামক একটি ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করে যেখানে সাধারণত পাংক রক ব্যান্ডগুলোই অংশগ্রহণ করে আসত। কাভার করা গানের প্রতি উত্সাহের কারণে তারা ২০০০ সালের অক্টোবরের ২৪ তারিখে শুধুমাত্র কাভার করা গান নিয়ে একটা গোটা অ্যালবাম প্রকাশ করে, যার নাম ছিল ‘গ্রেভ ইয়ার্ড ক্ল্যাসিকস’। ব্ল্যাক সাবাথের সুইট লিফ, ডিপ পার্পলের স্মোক অন দ্যা ওয়াটার, জিমি হেন্ড্রিক্সের পার্পল হেজ ইত্যাদি গান কাভার করা হয়েছিল তখন। সিক্স ফিট আন্ডারের প্রকাশিত বেশির ভাগ মিউজিক ভিডিও নিষিদ্ধ করা হলেও তাদের ডুমস ডে গানের মিউজিক ভিডিও ২০০৭ সালে এমটিভি২-এর হেডব্যাঙ্গারস বল অনুষ্ঠানে প্রচারিত হয়। বর্তমানে ক্রিস বার্নেস সহিংসতা ও মৃত্যু নিয়ে লিখছেন এবং কিছু রাজনৈতিক বিষয় যেমন মারিজুয়ানা বৈধকরণ ও সরকারের সমালোচনা নিয়েও লিখছেন। তাদের শেষ অ্যালবামটি ‘গ্রাভইয়ার্ড ক্লাসিক ওওও’ ১৯ জানুয়ারি, ২০১০ সালে মুক্তি পায়। সদস্য যারা— ক্রিস বার্নেস- ভোকালস (১৯৯৫-বর্তমান) স্টিভ সওয়ান্সন- গিটারস (১৯৯৮-বর্তমান) টেরি বাটলার- বেইজ (১৯৯৫-বর্তমান) গ্রেগ গল- ড্রামস (১৯৯৫-বর্তমান)