মহেশখালীতে চোরাই কাঠ দিয়ে ট্রলার তৈরির হিড়িক

মহেশখালীতে বনাঞ্চলের চোরাই কাঠ দিয়ে বেআইনীভাবে ট্রলার তৈরির হিড়িক পড়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা রাতের আঁধারে স্থানীয় বনাঞ্চল সাবাড় করে মহেশখালী দ্বীপের বিভিন্ন নদীতে নানা আকারের ফিশিং ট্রলার নির্মাণ করছে। উপকুলীয় বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে মহেশখালী সদরের গোরকঘাটাস্থ পুরাতন জেটির বাজারঘাট থেকে নির্মিয়মান একটি ফিশিং ট্রলার আটক করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর বিভিন্ন এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বৃক্ষ সাবাড় করে বিভিন্ন নদীতে বিভিন্ন আকারের ট্রলার তৈরি করছে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা। সাগরে মাছ ধরা, মালামাল ও যাত্রী পরিবহন, চোরাই মালামাল পরিবহন, এমনকি জলদস্যুতার কাজেও ব্যবহার হচ্ছে স্থানীয়ভাবে তৈরি এসব ট্রলার। মহেশখালীর সমাজকর্মী ফরিদুল আলম জানান, মহেশখালীর গোরকঘাটা, সোনাদিয়া, কুতুবজোম, ধলঘাটা ও মাতারবাড়ীসহ প্রায় ৩০টি স্থানে বনাঞ্চলের কাঠ দিয়ে অবৈধভাবে ট্রলার নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় মত্স্য ব্যবসায়ী আবদুল রহিম জানান, সাগরে এখন বেশিরভাগই বেআইনী ট্রলার চলাচল করে। এসব ট্রলার জলদস্যুতা, চোরাচালানসহ নানা অনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হয়। মহেশখালী উপকুলীয় বন বিভাগের গোরকঘাটা অঞ্চলের রেঞ্জ অফিসার আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উপকুলীয় বন বিভাগ বনাঞ্চলের বৃক্ষ রক্ষায় তত্পর রয়েছে। বনবিভাগের লোকবল সংকটের কারণে দুর্বৃত্তরা মাঝেমধ্যে এর সুযোগ নিচ্ছে। তবে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে গোরকঘাটা থেকে অবৈধ কাঠসহ একটি ট্রলার আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, এই ঘটনায় বন বিভাগ বাদী হয়ে নির্মাণাধীন ট্রলারের মালিক ও স্থানীয় প্রভাবশালী সালাহউদ্দিনকে আসামি করে থানায় মামলা রুজু হয়েছে। মামলার আসামি সালাহউদ্দিন (৪০) মহেশখালী পৌর এলাকার গোরকঘাটা সিকদার পাড়ার বাসিন্দা।