প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডের বৃত্তি পাবে ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থী

প্রধানমন্ত্রীর এডুকেশন অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রাস্ট ফান্ড থেকে শিগগিরই দেশের ১ লাখ ১৬ হাজার দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওই ট্রাস্টি বোর্ডের উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠকে গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এক ব্রিফিংয়ে বলেন, পর্যায়ক্রমে সুবিধাপ্রাপ্তদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং শিক্ষা খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। ‘জাতির উন্নয়নের প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি, এছাড়া জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়’ একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের জন্য শিক্ষাকে সর্বোত্তম বিনিয়োগ হিসেবে বর্ণনা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সাব-জেলে আটক থাকাকালে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘পরে তা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে সংযুক্ত করা হয়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকারের সময় সাক্ষরতার হার ৬৫ শতাংশে উন্নীত করেছিলেন কিন্তু পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওই হার কমে ৫০ শতাংশ দাঁড়ায়। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে ২০১৪ সাল নাগাদ দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। শেখ হাসিনা বলেন, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের পড়াশুনা ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারে সেক্ষেত্রে সহযোগিতা দিতে তাঁর সরকার ১ হাজার কোটি টাকা তহবিল দিয়ে এডুকেশন অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর সরকার মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করেছে, ছাত্রী বৃত্তি প্রদান করছে এবং বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধে দুপুরে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, পরিকল্পনা মন্ত্রী এ কে খন্দকার, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমীন এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. এ কে আজাদ চৌধুরী ও সংশ্লিষ্ট সচিবগণ বৈঠকে অংশ নেন।