জুমআর দিবসের মাহাত্ম্য ও তাত্পর্য
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৩, ১৭:৫৫
হে ঈমানদারগণ! যখন জুমআর নামাযের জন্য আহবান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহকে স্মরণের জন্য দ্রুতগতিতে এগিয়ে এসো এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটা (জুমআর নামাযে শরীক হওয়া) তোমাদের জন্য খুবই লাভজনক, যদি তোমরা এর মাহাত্ম্য জানতে (সূরা জুমআহ)। আল্লাহর নবী (স.) বলেন, জুমআর দিন সমস্ত দিনের সর্দার ও আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় দিন। আল্লাহর নিকট এর মাহাত্ম্য অত্যধিক। এর মধ্যে ৫টি বৈশিষ্ট্য আছে: (১) এই দিনে আল্লাহতা’আলা আদমকে সৃষ্টি করেন (২) এই দিনে তিনি তাঁকে জমিনে নামিয়ে দেন (৩) এই দিনে তিনি তাকে মৃত্যু দান করেন (৪) এই দিনের একটি সময় রয়েছে যে সময়ে কোন বান্দা যদি আল্লাহর কাছে কোন হালাল জিনিস চায় তাহলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন (৫) আর এই দিনেই কেয়ামত হবে। (এই কেয়ামত হবার কারণে) আল্লাহর নিকটবর্তী ফেরেশতা, আসমান যমীন, বাতাস, পাহাড়, পর্বত ও সমুদ্র প্রভৃতি জুমআর দিনে ভয় পেয়ে থাকে (ইবনু মাজাহ, আহমাদ) । আল্লাহর রসূল (স.) বলেন, ঐ মূল্যবান সময়টি খুবই অল্প (বুখারী, মুসলিম)। আবু মুসা বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (স.) কে বলতে শুনেছি যে, ঐ সময়টি হল ইমামের মেম্বারে বসা থেকে নিয়ে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত এর মধ্যেই (মুসলিম)। আল্লাহর রসূল (স.) বলেন, জুমআর দিন বা জুমআর রাতে যে মুসলমান ব্যক্তি মারা যায় আল্লাহ তাকে কবরের ফেতনা থেকে বাঁচিয়ে নেন (আহমাদ, তিরমিযী মেশকাত)। আল্লাহর রসূল (স.) বলেন যে ব্যক্তি জুমআর দিনে গোসল করে এবং সকাল সকাল মসজিদে পায়ে হেঁটে আসেন, কোন বেহুদা কথা না বলে তাহলে সে প্রত্যেক পদক্ষেপের বদলে এক বছরের রোজা ও ইবাদতের সওয়াব পায় (তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসায়ী ইবনু মাজাহ)। আল্লাহর রসূল (স.) বলেন, জুমআর দিনে ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে যায় এবং মসজিদের প্রথম আগমনকারীদের নাম পর পর লিখতে থাকে। অতঃপর প্রথমে যে ব্যক্তি মসজিদে আসে সে ঐ ব্যক্তির মত যে ব্যক্তি আল্লাহর রাহে উট সাদকাহ দেয়। তারপর ২য় ব্যক্তি গরু, ৩য় ব্যক্তি দুম্বা, ৪র্থ ব্যক্তি মুরগী এবং ৫ ব্যক্তি যেন আল্লাহর জন্য ডিম সাদকাহ করে। অতঃপর ইমাম যখন কাতার থেকে বেরিয়ে (মেম্বারে উঠে) যান তখন তারা তাদের খাতাপত্রগুলো গুটিয়ে ফেলে এবং খুত্বা শুনতে থাকে (বুখারী, মুসলিম)। —আবদুল্লাহ আল বাকী