বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু কম্পিউটার মেলা

রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বিসিএস কম্পিউটার সিটিতে গতকাল শুরু হয়েছে দশ দিনব্যাপী ‘সিটিআইটি কম্পিউটার ফেয়ার। অন্যান্যবারের মতো এবারও মেলায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্যের উপর বিশেষ মূল্যছাড়, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বাধুনিক পণ্যের সমারোহ এবং বিশ্বখ্যাত সব প্রযুক্তি পণ্যের ব্র্যান্ডের সুসজ্জিত প্যাভিলিয়ন। বরাবরের মতোই এই মেলা কেবল প্রযুক্তি পণ্যের প্রদর্শন আর বিক্রয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিদিন রয়েছে সেলিব্রেটি শো। এ ছাড়াও রয়েছে শিশু চিত্রাঙ্কন, গেমিং, ডিজিটাল ফটোগ্রাফি ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কুইজ এবং রক্তদান কর্মসূচির মতো বৈচিত্র্যময় আয়োজন। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞানকে সঠিকভাবে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে মেলায় থাকছে নলেজ ম্যানেজমেন্ট জোন। এবারের মেলার স্লোগান রাখা হয়েছে ‘সামাজিক ও গণযোগাযোগের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম কম্পিউটার’। গতকাল মেলার উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। এ সময়ে তিনি বলেন, ‘এই মেলা জ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক মেলা। এই মেলার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ ইন্টারনেটের উপর ভ্যাট প্রত্যাহারে প্রযুক্তিবিদ এবং প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট অন্যদের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমিও চাই শিক্ষামূলক কোনো জায়গাতেই কোনোরকম ভ্যাট থাকবে না। এই দাবি নিয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করব, আপনারা ইন্টারনেটকে বিনামূল্যে সকলের নিকট পৌঁছে দিন। দেখুন, আমাদের তরুণরা বাংলাদেশকে কোথায় এগিয়ে নিয়ে যায়।’ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মঈনুল ইসলাম, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের সভাপতি আফতাব-উল-ইসলাম, বাংলালায়ন কমিউনিকেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, বিসিএস পরিচালক মোস্তাফা জব্বার, বিসিএস কম্পিউটার সিটির সভাপতি মজিবুর রহমান স্বপনসহ মেলার পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে সবাইকে ধন্যবাদ জানান সিটিআইটি মেলার আহ্বায়ক ও বিসিএস কম্পিউটার সিটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এএনএম কামরুজ্জামান। মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, বিসিএস কম্পিউটার সিটির প্রায় ২ লাখ বর্গফুট জায়গা জুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই মেলা। প্রায় ১৬০টি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্যাভিলিয়নে প্রদর্শিত হচ্ছে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার পণ্য, নেটওয়ার্ক ও ডাটা কমিউনিকেশন পণ্য, মাল্টিমিডিয়া ও আইসিটি শিক্ষা উপকরণ, ল্যাপটপ, পামটপ, ডিজিটাল জীবনধারার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি এবং পণ্য। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মেলা সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। মেলায় প্রবেশমূল্য ১০ টাকা। তবে পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে কিংবা স্কুলড্রেস পরিহিত অবস্থায় শিক্ষার্থীরা মেলায় বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ পাবে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধীরাও বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশের সুযোগ পাবেন। মেলায় প্রতিদিন প্রবেশ টিকেটের ওপর র্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে দেওয়া হবে প্রযুক্তি পণ্যের পুরস্কার। এবারের আয়োজনের প্লাটিনাম স্পন্সর বাংলালায়ন কমিউনিকেশন লিমিটেড এবং গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে আসুস, ক্যাসপারস্কি, স্যামসাং এবং জেরক্স। মিডিয়া পার্টনার হিসাবে রয়েছে দৈনিক ইত্তেফাক, এটিএন বাংলা, এবিসি রেডিও এবং বাংলানিউজ২৪.কম।