পরিদর্শন রিপোর্ট দ্রুত উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৩, ২১:২৪
ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও জাল-জালিয়াতি ঠেকাতে তফশিলী ব্যাংকগুলোর পরিদর্শন রিপোর্ট দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যে কোন পরিদর্শন প্রতিবেদন সর্বোচ তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করে তা উপস্থাপন করা হবে।
দেশের আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা আরো সুদৃঢ় করতে পরিদর্শন কার্যক্রম জোরদার ও কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরী বলেন, ‘আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা আরো সুদৃঢ় করতে পরিদর্শন প্রতিবেদন দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর অনিয়ম বা ত্রুটি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে উদঘাটিত হবে। ফলে যে কোন অনিয়মের বিষয়ে ত্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।’
তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিদর্শন প্রতিবেদন চূড়ান্ত হলে যে কোন অনিয়ম বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশিত নিয়ম-কানুন পরিপালনে কোথাও ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সে বিষয়ে আগে সতর্ক করা সম্ভব হবে। যা বড় ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতি প্রতিরোধে বিশেষ সহায়ক বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত নিয়ম-কানুন তফসিলী ব্যাংকগুলো ঠিকমতো পরিপালন করছে কি-না কিংবা সেখানে কোন অনিয়ম হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন করে থাকে। পরিদর্শনশেষে পরিদর্শক দল বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পরিদর্শন প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এ সব পরিদর্শন প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে তা উপস্থাপন করতে কখনও কখনও ৬ থেকে ৯ মাস সময় লেগে যায়। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক সময় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।
সামপ্রতিককালে আর্থিক খাতে হলমার্কসহ বেশ কিছু অনিয়ম ও জালিয়াতি সংঘটিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিদর্শন কার্যক্রম জোরালো করার উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ একটি পরিদর্শক টিম গঠন করে। এর পাশাপাশি ভিজিল্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগকে পুনর্গঠিত করা হয়েছে। অন্যদিকে অনলাইন ইলেকট্রনিক সুপারভিশন ড্যাশবোর্ড গঠন এবং আইবিপিসহ আমদানি ও রপ্তানি সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য অনলাইনে সরবরাহ করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।