দুঃসময়ই এই সাফল্যের রহস্য!

বাংলাদেশ দল যখন শ্রীলঙ্কায় পৌঁছালো; তাদের সঙ্গী তখন একটার পর একটা দুঃসংবাদ আর শ্রীলঙ্কা সফরে দুঃসহ ইতিহাস। সাকিব, তামিম, নাফীস, নাঈম, মাশরাফি; একটার পর একটা ইনজুরিতে বাংলাদেশ দলের পিঠ তখন দেয়ালেই ঠেকে গেছে। আর কোচ শেন জার্গুনসেন বলছেন, এই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়াটাই বাংলাদেশের শাপে বর হয়েছে। এখন তারা প্রচণ্ড একতাবদ্ধ ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ একটা দল হিসেবে খেলছে। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে জার্গুনসেন বলেছেন, সেই একতাবদ্ধ আর প্রতিজ্ঞ হওয়ার ফলই গল টেস্টের দুরন্ত পারফরম্যান্স। জার্গুসেন বর্ণনা করছেন, গলে দলের খেলোয়াড়ই কেমন সমর্থকের ভূমিকায় নেমে উত্সাহ দিয়েছে খেলোয়াড়দের। প্রায় জনমানবহীন স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুম থেকেই করতালি দিয়ে ব্যাটসম্যানদের অনুপ্রাণিত করা হয়েছে, ‘ইনজুরি আর টুকটাক কিছু ঘটনায় দলটা একটা ইউনিট হিসেবে খুব শক্ত হয়ে উঠেছে এবং আরও শক্ত মানসিকতার হয়েছে। গলে মাঠে তেমন লোকজন ছিল না। ফলে এমনও হয়েছে, ড্রেসিংরুম থেকেই হাতে তালি দিয়ে ব্যাটসম্যানদের সমর্থন জানাতে হয়েছে। ভালো করার জন্য একেবারে মরীয়া ছিল ওরা। সেটারই ফল পেয়েছি আমরা।’ শেন জার্গুনসেনের এখন পর্যন্ত সৌভাগ্যই বলতে হবে; যে কোনোভাবেই হোক, দায়িত্ব হাতে পাওয়ার পর থেকে দলকে ভালো করতেই দেখছেন। সহকারি কোচ হিসেবে দলকে দেখেছেন অনেকদিন। এরপর ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয় পেয়েছেন। এবার এই সাফল্য। সে ক্ষেত্রে ভাগ্যের সঙ্গে কোচের কিছু কৃতিত্বও স্বীকার করতে হয়। কিন্তু জার্গুসেন বলছেন, তিনি তেমন কিছুই করেননি। শুধু বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের সবসময় প্রাপ্য সম্মানটা দিয়েছেন এবং তাদের আত্মবিশ্বাস ঠিক রাখার চেষ্টা করেছেন, ‘আমি এখানে আসার পরই দেখেছি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটো সিরিজে লড়াই করেও কেমন হেরে গেছে এরা। আমি বুঝেছিলাম, আত্মবিশ্বাসটাই বেশি জরুরি। আমি সেটাই করে গেছি। ওদের ওপর বিশ্বাস রেখেছি, ওরা যাতে আত্মবিশ্বাসী থাকে, সেটা করেছি। আমি তাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে সবসময় সম্মান দিয়ে কথা বলি। আমার এই অ্যাপ্রোচটাকে আমি একটু অন্যভাবেই দেখি।’ এখন মানতেই হচ্ছে যে, জার্গুনসেনের এই পদ্ধতিটা কাজে দিচ্ছে। ক্রিকেটারদের সম্মান দেওয়ার বিনিময়ে তিনিও কম সম্মান এখন পাচ্ছেন না। জার্গুসেন বললেন, এই সফলতার জন্য সম্মানটাও আসলে খেলোয়াড়দেরই প্রাপ্য। মাঠের বাইরে সবসময় যা হয়, এবারও নাকি তাই-ই করেছেন। কিন্তু মাঠের বাইরের কথাগুলোকে কাজে করে দেখানোতেই বিশেষ মুগ্ধ তিনি শিষ্যদের নিয়ে, ‘আমরা মাতারাতে প্রথমে দলের সবাই এক হয়ে বসেছি। এরপর ব্যাটসম্যান, বোলারদের আলাদা আলাদা গ্রুপ নিয়ে বসেছি। এরকম সবসময়ই করা হয়। তবে এবার তারা খুব উত্সাহী ছিল। শেষ পর্যন্ত দেখলাম, আমরা যা আলোচনা করেছি; তার সবকিছুই তারা মাঠে করে দেখানোর চেষ্টা করেছে।’ এবার জার্গুনসেনের দলের জন্য চ্যালেঞ্জ—গলের এই চরিত্রটাই কলম্বোতে ধরে রাখা। জার্গুসেন আশাবাদী। কলম্বোর উইকেট, কন্ডিশন সবই অন্যরকম; তারপরও আশাবাদী তিনি, ‘আসলে অ্যাপ্রোচটা শেষ পর্যন্ত কী হবে, সেটা উইকেট দেখে ঠিক করা হবে। তবে এটুকু বলতে পারি, গল আর কলম্বো এক হবে না। কিন্তু মূল ব্যাপারটা একই। সেই একইরকম প্রয়োগ আর ধৈর্য দেখাতে হবে। সেই একই কাজ করতে হবে। আর এই কাজটাই করতে পারলে ফল আমাদের পক্ষে আসবে।’