কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা সদর থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে সুবিদপুর গ্রামের অবস্থান। যে গ্রামের ৫০টি পরিবার আজো পাটি শিল্পকে তাদের বাঁচার একমাত্র অবলম্বন হিসেবে আঁকড়ে আছেন। একসময় সুবিদপুরের শতাধিক পরিবার পাটি শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল। কালের বিবর্তনে সেই শিল্প আজ বিলীনের পথে। আজ সুখ নেই পাটিকরদের মনের। অভাব তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। কাঁচামালের অভাবে তৈরি ব্যয় বেশি হওয়ার কারণে বাজারে চাহিদা কমে গেছে।
সুবিদপুর গ্রামের অনিল পাটিকর, রঞ্জন পাটিকর জানান, তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। কারণ, গ্রীষ্মে এই পাটির চাহিদা প্রচুর। এই তিন-চার মাসের আয় দিয়ে তাদের সারা বছরের খোরাকি চলে।
পাটিকর মঞ্জু রানী জানান, একটি শীতলপাটি তৈরি করতে সাধারণত তিন-চার দিন লাগে। সাত দিনে একটি উন্নত মানের পাটি তৈরি করা যায়। এত কষ্টে তৈরি পাটির দাম শুনে ক্রেতারা প্রায়ই অনুযোগ করেন, সামান্য শীতল পাটির এত দাম!
সঞ্জিব পাটিকর বলেন, পাটিশিল্পের বিকাশে বড় সমস্যা হলো অর্থনৈতিক সমস্যা। শীতল পাটি তৈরির জন্য পাটিকরদের সরকারি, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কোনো ঋণ দেয় না। সরকার শীতল পাটি রপ্তানির উদ্যোগ নিলে পাটিকরদের দিন ঘুরে যেত।
পাটিকরদের নিবন্ধনকৃত সমিতির সভাপতি খোকন পাটিকর জনান, দেশ স্বাধীনের পর সমিতির কার্যালয়ের চারদিকের দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর আজো জানালা দরজা লাগানো সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে পাটিকররা।
সুবিদপুর শীতল পাটি সমবায় সমিতির সভাপতি রবিন পাটিকর জানান, মোটাপাটি ও বুকাপাটির দাম শীতল পাটির চেয়ে অনেক কম। পাঁচ ফুট প্রস্থ ও সাত ফুট দৈর্ঘ্যের ভালো মানের একটি শীতল পাটি কাউখালীর বাজারে দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হয়। মধ্যম মানের একটি পাটির দাম ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা। এ ছাড়া ৪০০-৫০০ টাকায়ও কিছু শীতল পাটি মেলে।
কাউখালীর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাইদ মিঞা মনু জানান, ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প শীতল পাটির বিপণনব্যবস্থা উন্নত করা হলে এই পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সারা বছর ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারবেন।
তিনি বলেন, পাটিকরদের মূল দাবি কিছু খাস জমির। যেখানে পাইত্রার চাষ করা সম্ভব। পাইত্রার আবাদ করতে পারলে তাদের অভাব দূর হবে।