সরকারের প্রেসনোট মিথ্যাচার :বিএনপি

নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান নিয়ে সরকারি প্রেসনোটের জবাব দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। প্রেসনোটের মাধ্যমে সরকার মিথ্যাচার করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে পুলিশের তাণ্ডব জায়েজ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। গত বুধবার রাতের ওই প্রেসনোটের পর গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি এ অভিযোগ জানায়। দলটির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের নির্দেশে পরিকল্পিতভাবে অসত্ উদ্দেশ্যে হামলা, ভাঙচুর, টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি চালিয়ে সমাবেশ পণ্ড করার পর পুরনো কৌশলে বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোটকে দোষারোপ করার কুমানসে এই সরকারি প্রেসনোট দেয়া হয়েছে। কর্তব্যরত পুলিশ বাহিনীর ওপর হামলার জন্য বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা কোনভাবেই দায়ী নয়, বরং বরাবরের মতো পুলিশের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সমাবেশে আসা সাধারণ জনগণ ও নেতা-কর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা করে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাসহ কয়েকশ’ নেতা-কর্মী বিএনপি কার্যালয়ে আশ্রয় নেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসনোটের বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পুলিশি হামলার আগেই হরতাল আহ্বান করার দাবি নির্লজ্জ মিথ্যাচার, হাস্যকর ও নিম্ন মানসিকতার পরিচায়ক। প্রকৃত ঘটনা সারা জাতি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়েছে এবং পরদিন জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশি হামলার পর প্রায় ১৫/২০ মিনিট তিনি সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে সমবেত জনতাকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তিনি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনী ও তাদের আশ্রয়ে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা সমাবেশ পণ্ড করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা এক পর্যায়ে বিএনপি কার্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করার জন্য জঘন্য পুলিশি তত্পরতা চালায় এবং দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ অনেককে গ্রেফতার করে। এক পর্যায়ে ককটেল উদ্ধারের ঘৃণ্য নাটক মঞ্চস্থ করে। দলের মহাসচিবের কক্ষের দরজা হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দলের সিনিয়র নেতাদের আটক করে, অফিসের সব সামগ্রী-কম্পিউটার, ফটোকপিয়ার, ফ্রিজ, আসবাবপত্র ভাঙচুর, দলিল দস্তাবেজ বিনষ্টকরণ ও নগদ টাকা পয়সা লুটপাট করে নিয়ে যায়- যা সভ্য দুনিয়ায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নজীরবিহীন এক জঘন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এই প্রেসনোটের মাধ্যমে জনগণকে বোকা বানানো এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ এই সরকার জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার পুরনো আওয়ামী রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি করছে মাত্র। এই বানোয়াট বিভ্রান্তিকর, জঘন্য মিথ্যাচারে পূর্ণ প্রেসনোটের সরকারি তত্পরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় বিএনপি। একই সঙ্গে এ জাতীয় অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে গতকাল পরিষদের সদস্য সচিব অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ বিএনপি নেতাদের মুক্তির দাবিতে এই মানববন্ধন হয়। সংগঠনের নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সদরুল আমিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান মিয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা কবি আবদুল হাই সিকদার, আমিরুল ইসলাম কাগজী, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের প্রধান অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক, অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে জিয়া নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ বলেন, সরকার সংলাপের ধোঁয়া তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। সংগঠনের সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির যুগ্ম মহাসচিব সাহাদাত হোসেন সেলিম, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।