ডায়াবেটিস সনাক্ত ভয়ের কিছু নেই
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৩, ১৮:৫৯
•অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী •
পরিচালক, ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস
বারডেম, ঢাকা।
ডায়াবেটিস
ধরা পড়েছে এমন শুনলে অনেকের মনে বেশ ভয় হয়, মন খারাপ হয় কারো কারো। তবে জীবন যাপনে কিছু পরিবর্তন আনেল একে মোকাবেলা করা সম্ভব। ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যাদের ডায়াবেটিস নতুন ধরা পড়েছে তাদের প্রথম বোঝার ব্যাপার হলো- ডায়াবেটিস নিয়েও পরিপূর্ণ জীবন যাপন করা সম্ভব। জীবন-যাপনে সামান্য পরিবর্তন আনলে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে
রাখা যায়, দিন দিন ভালোও থাকা যায়। স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবন-যাপন করা যায়।
ভয়ের সব কাহিনী আমলে না আনলেই ভালো
যখন বলবেন, ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে, দেখবেন অনেকে ভয় দেখাবে, ভয়ের গল্প শোনাবে যেমন- খালাম্মার পা কেটে ফেলতে হয়েছিলো ডায়াবেটিস রোগের জন্য অথবা বন্ধুর কোনও বন্ধুর গল্প যার চোখ অন্ধ হয়ে গিয়েছিলো ডায়াবেটিসের কারণে, এমন সব গল্প। এসব সমস্যা ডায়াবেটিসের জটিলতা বটে, এসব জটিলতা প্রতিরোধ এত সফলভাবে আজকাল করা সম্ভব যে এমন পরিনতি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম যদি আমরা একটু সচেতন ও সতর্ক হতে পারি। পারিবারিক চিকিত্সক বা ডায়াবেটিক চিকিত্সক বা ডায়াবেটিস এডুকেটর রোগ সম্বন্ধে সৃষ্ট ধারণা দিতে পারেন রোগীকে। জীবন-যাপনে পরিবর্তন আনার জন্যও প্রয়োজনে ওষুধ ব্যবহারেরও পরামর্শ দিতে পারেন।
একটু বেশি হাঁটুন
শরীরর্চ্চাকে একটু বাড়ানো তেমন কঠিন কাজ নয়। এতে রক্তের সুগার কমে দু’টি কারণে। গবেষকরা বলেন, ব্যায়াম করলে শরীর ইনসুলিন আরো কার্যকর ভাবে ব্যবহার করতে পারে, ব্যায়াম করলে শরীরের বাড়তি ওজনও কমে। অল্প অল্প করে শুরু হোক। যেমন- উচু বিল্ডিং-এ উঠতে হলে লিফট্ ব্যবহার না করে সিঁড়ি
ব্যবহার করুন, গাড়ি দূরে পার্ক করে হেঁটে যান গন্তব্যে, এক স্টপ আগে
বাস থেকে নেমে পড়ুন, এরপর হেঁটে যান গন্তব্যে। ক্রমে ক্রমে সপ্তাহে পাঁচদিন ৩০ মিনিট করে হাঁটুন। টাইপ-২ ডায়াবেটিস যাদের, এদের জন্য নিয়মিত ফিটন্যাস রুটিন অনুসরণ করলে রক্তের গ্লুকোজ কমাবার ওষুধের চাহিদা অনেক কমে আসবে।
চেকআপ করুন রক্তের চাপ
ও কোলেস্টেরল
রক্তের সুগার মান গুরুত্বপূর্ণ বটে, তবে শুধু একেই নজর করলে
চলবে না। ডায়াবেটিস হলে
হূদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে দ্বিগুন। এর পেছনে উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের অবদান কম নয়। রক্তচাপ ১৩০/৮০ হলে ভালো, মন্দ কোলেস্টেরল এলডিএল ১০০-এর নিচে হলে এবং হিতকর কোলেস্টেরল এইচডিএল ৪০-এর বেশি হলে ভালো।
খাদ্যোভ্যাসে চাই পরিবর্তন
জীবনে ছোট ছোট পরির্তন স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পারে। তাই একসঙ্গে একটি খাদ্যের পরিবর্তন লক্ষ্য হতে পারে। এতে লেগে থাকতে হবে। যেমন- খাবার প্লেটের অর্ধেকটা ভরে ফেলুন শর্করা বিহীন টাটকা রঙিন শাক সবজি দিয়ে। প্রতি বেলার খাবারে থাকুন তেমন পরিবর্তনের ছোঁয়া। এমন খাবারে ক্যালোরি খুব কম, শর্করা কম, আশ পরিপূর্ণ খাবার। এমন হতে পারে সরভর্তি বা ননীভর্তি দুধের পরিবর্তে ননী বিহীন দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেতে থাকলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমবে। কমবে হূদরোগের ঝুুঁকি।
প্রতিদিন পায়ের অবস্থা
চেক করুন
ডায়াবেটিসের কারণে স্নায়ু বা রক্তনালীর ক্ষতি হলে অঙ্গে রক্ত চলাচল কমে যায় এবং পায়ে চেতনা বড় কমে যায়। পায়ের ফোসকা বা ক্ষত রোধ হয়না, পায়ে কড়া পড়া
বা ক্ষত হতে পারে, এগুলো চিকিত্সা না করালে সংক্রমণ হতে পারে। গুরুতর হলে অঙ্গছেদও করতে হতে পারে। প্রতিদিন পা’কে তাই নজর করা উচিত। পা ঝিন ঝিন করলে, অবশ মনে হলে পায়ের নখ ভেতর দিকে বাড়লে ডাক্তার দেখানো উচিত।
অবলম্বন আশা করুন
পরিবারের সবাইকে, বন্ধু-বান্ধবকে, ডায়াবেটিস হলে সাহায্য চাইতে বলুন, নিজেরও হলে সাহায্য
চান, ডাক্তারদের, ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞদের। বন্ধুকে আনুন ডায়াবেটিস এডুকেশন ক্লাসে, প্রতিবেশি আহ্বান করুন হাঁটার প্রোগ্রামে যোদ দিতে। খাদ্যে ও লাইফস্টাইলে যেসব পরিবর্তন যা যা প্রয়োজন তা প্রিয়জনদেরকে জানালে সুবিধা হয়, এভাবে
গড়ে তোলা যায় সাপোর্ট গ্রুপ। ডায়াবেটিস মোকাবেলা
এভাবে হবে সম্ভব।