লিভারের রোগে কি খাবেন কি খাবেন না
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৩, ১৯:০১
লিভার সিরোসিস হচ্ছে এমন একটি রোগ যেখানে লিভারের স্বাভাবিক গঠন এবং একটা পর্যায়ে কার্য ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এদেশে লিভার সিরোসিসের প্রধান কারণ হেপাটাইটিস বি ভাইরাস। এছাড়াও ফ্যাটি লিভার, হেপাটাইটিস সি ভাইরাস, এলকোহলসহ অনেক কারণেই লিভার সিরোসিস হতে পারে। লিভার সিরোসিসের অনেকগুলো কপ্লিকেশনের অন্যতম কারণ হচ্ছে এসাইটিস বা পেটে পানি আসা। এ সমস্ত রোগীদের তরল এবং লবণ মেপে খাওয়াটা জরুরী। তরকারীতে যতটুকু লবণ দেয়া হয়, তার বেশী লবণ এ ধরণের রোগীদের খাওয়া উচিত নয়। অনেকের ধারণা লবণ ভেজে খেলে সমস্যা নেই। এই ধারণাটা মোটেও ঠিক না। কারণ সমস্যাটা আসলে লবণে নয়, বরং সোডিয়ামে। এই সোডিয়াম আমরা মূলত: দূভাবে খেয়ে থাকি। একটি হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড বা খাওয়ার লবণ, আর অন্যটি হলো সোডিয়াম বাইকার্বোনেট বা বেকিং পাউডার। সেজন্যই এসাইটিসের রোগীদের বেকারী আইজেম যেমন বিস্কুট, কেক ইত্যাদি এবং ফিজি ড্রিন্ক্স যেমন- কোক, পেপসি ইত্যাদি এড়িয়ে চলা উচিত। এসাইটিসের রোগীরা যদি বেশী বেশী তরল পান করেন বা সোডিয়ামযুক্ত খাবার খান, তাহলে তাদের পেটের পানি বাড়বে বই কমবে না। লিভার সিরোসিসের আরেকটি মারাত্মক কমপ্লিকেশন হলো হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি বা হেপাটিক কোমা। সহজ কথায় বলতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। প্রাণীজ আমিষ যেমন মাছ-মাংস, ডিম-দুধ ইত্যাদি খুব বেশী পরিমাণে খেলে রক্তে এমোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে গিয়ে রোগীর অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ডিকম্পেনসেটেড বা এডভান্সড লিভার সিরোসিসের রোগীদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তবে প্লান্ট প্রোটিন যেমন ডাল-এ ধরণের রোগীদের জন্য নিরাপদ। তাই বলে অতিরিক্ত সতর্ক হতে গিয়ে প্রাণীজ আমিষ একেবারেই বাদ দিলে চলবে না। সেক্ষেত্রে রক্তে কিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যেয়ে কিডনি ফেইলিওর হতে পারে। বিশেষ করে এধরণের রোগীদের কিডনি এমনিতেই নাজুক থাকে এবং তারা হেপাটোরেনাল সিনড্রোম নামক মারাত্মক ধরণের কিডনি ফেইলিওরের ঝঁকিতে থাকেন। পাশাপাশি লিভার সিরোসিস রোগীদের বাইরের খাবার এবং ফুটানো নয় এমন পানি খাবার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যদিকে এলকোহল থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ এলকোহল নিজেই এলকোহলিক লিভার সিরোসিস করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে এলকোহল গ্রহণ করলে হেপাটাইটিস সি ভাইরাস জনিত লিভার রোগের মাত্রা অনেক বৃদ্ধি পায়।
ডা. মামুন-আল মাহতাব
সহযোগী অধ্যাপক, লিভার বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়