প্রতিদিন সোয়া কোটি টাকার ছানা যাচ্ছে শাহজাদপুর থেকে

মিষ্টি তৈরির প্রধান উপকরণ দুধের ছানা শাহজাদপুরের চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে যাচ্ছে। উত্কৃষ্টমানের ছানা তৈরিতে শাহজাদপুরের জুড়ি নেই। বর্তমানে শাহজাদপুরে ১৫টি ছানা তৈরির কারখানা রয়েছে। এই ১৫টি কারখানায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ মণ উত্কৃষ্টমানের গরুর দুধের ছানা তৈরি করা হয়। শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ীতে অবস্থিত বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী অনুকূল বিশ্বাস জানান, তিনি স্থানীয় খামারিদের নিকট থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ মণ দুধ সংগ্রহ করেন। প্রতি লিটার দুধের দাম ৪৫ টাকা। এক মণ দুধ থেকে তিন কেজি ননী বা ক্রিম পাওয়া যায়। এ থেকে দেড় কেজি ঘি তৈরি করা হয় এবং দুধের বাকি অংশ থেকে উত্কৃষ্টমানের ছানা তৈরি করেন। তিনি প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ মণ দুধ থেকে ৫ থেকে ৬ মণ ছানা এবং প্রায় ৪০ কেজি ঘি তৈরি করেন। ননীযুক্ত দুধ থেকে তৈরি এককেজি উন্নতমানের ছানার মূল্য ৩ শত পঞ্চাশ টাকা। এককেজি উন্নমানের ছানা থেকে প্রায় সাড়ে তিন কেজি মিষ্টি তৈরি করা যায়। পোরজনা গ্রামে সুদেব কুমার ঘোষ জানায়, তারা প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ মণ ছানা ঢাকা ও নরসিংদীতে পাঠান। বর্তমানে শাহজাদপুর থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সোয়া কোটি টাকার ছানাসহ ঘি দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। অনুকূল বিশ্বাস জানান, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, বেড়া, ফরিদপুর, ভাঙ্গড়া, চাটমহর এই উপজেলাগুলোতে মিল্কভিটাকে কেন্দ্র করে অসংখ্য ছোট বড় গো-খামার গড়ে উঠায় মিল্কভিটার চাহিদা মিটিয়েও অতিরিক্ত দুধ থেকে যায়। ছানা তৈরির প্রধান উপকরণ দুধ সহজলভ্য ও চাহিদা মাফিক পাওয়ায় এ অঞ্চলে সহজেই অনেক ছানা ও ঘি তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এ কারখানাগুলো এখনও মান্ধাতা আমলের পদ্ধতিতে দুধ থেকে ননী ও ছানা তৈরি করার কারণে উত্পাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।