ডাক্তার যদি রেগে যান
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৩, ২০:০৫
ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় একটি চমত্কার খবর প্রকাশিত হয়েছে। আর এই খবরটিতে মূলত ডাক্তারের রাগ এবং রাগ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে করণীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে। রাগ, ক্রোধ, উত্তেজনা এসব মানুষের আজন্ম সাথী। মানুষ মাত্রই এসব থাকবেই। তবে ডাক্তার যদি রোগীর ওপর রেগে যান, জটিল অপারেশন করছেন কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাচ্ছেন না, ঘর্মাক্ত ডাক্তার এমন অবস্থায় যদি রেগে যান তাহলে কি বিপর্যয় হতে পারে। তাই ডাক্তার মানুষ হলেও ডাক্তারদের রাগ থাকা উচিত নয়। যদিও অভিযোগ রয়েছে বেশিরভাগ চিকিত্সক রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দেন না, রোগীদের কথা শুনতে চান না, রোগী কিছু বলার আগেই প্রেসক্রিপসন লিখে দেন, রোগী বেশি কথা বললেই রেগে যান, আর প্রায় সব রোগীই ডাক্তারের এসব অনভিপ্রেত আচরণ বছরের পর বছর ধরে মুখ বুঁজে সহ্য করলেও রোগীরা কখনও প্রতিবাদ করেন না। অন্তত বাংলাদেশের মত একটি তৃতীয় বিশ্বের দেশে রোগীরা তো অত্যন্ত বিনয়ী। তবে সব ডাক্তারই যে রোগীদের সময় দেন না, রোগীর কথা শোনেন না বা কারণে-অকারণে রেগে যান তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশসহ সব দেশেই বেশিরভাগ ডাক্তার অন্তত ভালো। ফিরে আসছি ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার প্রতিবেদনে। রিপোর্টে বলা হয়েছে শতকরা ৩ থেকে ৫ ভাগ চিকিত্সক চিকিত্সা-অপারেশনের সময় রেগে যান। শুধু রোগীদের ওপর নন, নার্স ও সহকর্মী ডাক্তারদের ওপরও রেগে যান। এ কারণে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ডাক্তারদের রাগ নিয়ন্ত্রণে ‘এ্যাংগার ম্যানেজমেন্ট কোর্স ফর ডক্টরস’ কর্মসূচি চালু রয়েছে। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, ডাক্তারদের খারাপ আচরণ শুধু তিক্ততাই নয়, এটা একটি নৈতিক অধঃপতন এবং এটা রোগীর নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও হুমকিস্বরূপ।
এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের এই প্রতিবেদনের আলোকে বাংলাদেশের চিকিত্সকদের আচরণগত সমস্যার ক্ষেত্রে আমাদেরও উদ্যোগ নেয়া উচিত। আর বাংলাদেশের অনেক চিকিত্সকের আচরণ, রোগীর সঙ্গে ব্যবহার ও রোগীকে কম সময় দেয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রেও পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রয়োজন ডাক্তার-রোগীর সুসম্পর্ক।