ইউরোপকে ছাড়িয়ে গেছে এশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যয়
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৩, ২০:০৭
এশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যয় গত বছর প্রথম ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয়কে ছাড়িয়ে গেছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ (আইআইএসএস)। চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি আর ইউরোপে সঙ্কুচিত হতে থাকা অর্থনীতি থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট। — খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকমের। বিশ্বের দেশগুলোর সামরিক শক্তি সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদনে আইআইএসএস জানায়, ২০১১ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্য চীনের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাস্তবিক অর্থে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। আর গোটা এশিয়ায় সামগ্রিকভাবে প্রতিরক্ষা ব্যয় গত বছর বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
ওদিকে, ইউরোপে বাজেট কাট-ছাঁটের কারণে ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যদের মধ্যে ন্যূনতম প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রায় ২০০৬ সালের পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে ‘দ্য মিলিটারি ব্যালেন্স ২০১৩’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আইআইএসএস। এতে আরো বলা হয়েছে, এশিয়ায় প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি হচ্ছে এত দ্রুতহারে আর ইউরোপের দেশগুলোতে প্রতিরক্ষা খাত এতটাই কৃচ্ছ যে, ২০১২ সালে এশিয়ার ন্যূনতম প্রতিরক্ষা ব্যয় (২৮৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার) কেবল ইউরোপের ন্যাটো জোটই নয় বরং ন্যাটোর বাইরের দেশগুলোসহ গোটা ইউরোপের মোট সরকারি প্রতিরক্ষা ব্যয়কে ছাড়িয়ে গেছে।
এশিয়ার দেশগুলো ক্রমেই জটিল হয়ে উঠতে থাকা আঞ্চলিক পরিবেশ মোকাবেলায় সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য তাদের উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে। চীন এখন স্পষ্টতই প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের দিক থেকে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থান অধিকার করেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই হলে চীন ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সমপর্যায়ে চলে যেতে পারে। ওদিকে, উত্তর কোরিয়াও পরমাণু পরীক্ষা চালানোসহ তাদের সামরিক শক্তি নানাভাবে বাড়িয়ে চলেছে। ভারত আমদানির ওপর বেশিমাত্রায় নির্ভরশীল হওয়ায় দেশটি বিদেশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারীদের জন্য অন্যতম বড় বাজারে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান এবং চীনকে সামনে রেখে ভারত ক্রমাগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি মোকাবেলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করে গড়ে তুলছে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়াও।