২৩০ কোটি ডলারে পদ্মা সেতু করার প্রস্তাব মালয়েশিয়ার

মালয়েশিয়া ২৩০ কোটি ডলার ব্যয়ে পদ্মাসেতু প্রকল্পে মূল সেতু ও নদীশাসন কাজ করে দিতে চায়। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত দাতো সেরি এস সামি ভেলু এ তথ্য দিয়ে বলেছেন, নির্মাণ ব্যয় কিছু কমবেশি হতে পারে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রস্তাব অনুমোদন করলে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কারিগরি কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটি সেতু প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে। আর সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর টোলের হার ঠিক করবে বাংলাদেশ সরকার। তিনি জানান, সেতু প্রকল্পটি শেষ করতে প্রায় ৫ বছর সময় লাগবে। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর থেকে ২৬ বছর এটি মালয়েশিয়ার হাতে থাকবে। এ ২৬ বছর গণনা শুরু হওয়ার পর প্রথম পাঁচ বছর টোলের টাকা সেতু প্রকল্পে ব্যবহূত ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। তারপর টোলের ৭০ শতাংশ পাবে মালয়েশিয়া এবং ৩০ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ। টোলের প্রত্যাশিত পরিমাণ ধরা হয়েছে ৮৩০ কোটি মার্কিন ডলার। কোন কারণে টোলের পরিমাণ প্রত্যাশার কম হলে যেটুকু কম হবে তা বাংলাদেশ সরকারকে পূরণ করতে হবে। মালয়েশীয় প্রতিনিধি দলের একজন সদস্য জানান, এ প্রকল্পের যে অর্থায়ন করা হবে তার সুদের হার এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ টোল। এ টোল ঠিক করার দায়িত্ব থাকবে বাংলাদেশ সরকারের হাতে। তিনি জানান, সেতু প্রকল্পে ১৪ কিলোমিটার নদীশাসন করতে হবে। তবে সেতু নির্মাণের সময় ৬ কিলোমিটার করতে হবে। পরবর্তী দুই বছরে নদীশাসনের কাজ শেষ করা হবে। সংবাদ সম্মেলনের সময় এক প্রশ্নের উত্তরে দাতো সেরি এস সামি ভেলু বলেন, বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত মালয়েশিয়ার সঙ্গে পদ্মা সেতু নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে সে সম্পর্কে এবিসি’ও জানেন না। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা আলোচনা করেছি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মনে করিয়ে দেয়া হয় আপনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। তখন তিনি বলেন, আমি এ আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশ করতে চাই না। আইএমএফ পদ্মাসেতুতে অর্থ সংগ্রহ ব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পদ্মা সেতুতে সরকারের নতুন অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও ঋণ পরিশোধ সক্ষমতায় কিভাবে প্রভাব ফেলতে পারে সেটি পর্যালোচনা করে দেখবে। সংস্থার সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে আইএমএফ-এর বর্ধিত ঋণ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এ ঋণ সম্পর্কে আলোচনার জন্য ২০ মার্চ থেকে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। এ ঋণের শর্ত অনুযায়ী বহির্বিশ্ব থেকে বাংলাদেশ সরকারের কঠিন শর্তের ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি পরিসীমা আছে। প্রথমদিকে এটি ছিল ১০০ কোটি ডলার। পরে বাংলাদেশ সরকার অনুরোধ করায় এটা বাড়িয়ে ১৫০ কোটি ডলার করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আইএমএফ এ সিলিংয়ের বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের চুক্তি হওয়ার পর থেকেই এদিকে তারা খেয়াল রাখছে। যদি ঋণ সীমা অতিক্রম করে যায় সেক্ষেত্রে আইএমএফ থেকে তৃতীয় কিস্তির বর্ধিত ঋণ পাওয়া নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ বর্ধিত ঋণের আওতায় বাংলাদেশের প্রায় ১০০ কোটি ডলার পাওয়ার কথা। ইতিমধ্যে দুই কিস্তিতে ২৭ কোটি ৮৮ লাখ ডলার পাওয়া গেছে।