পদার্থবিজ্ঞান ১মপত্র
গাণিতিক সমস্যাবলীর ক্ষেত্রে প্রশ্ন ভালো করে পড়ে বুঝে নিতে হবে
টাইমুর-আল-মোবারক প্রভাষক (পদার্থবিজ্ঞান), ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৩, ১৮:৪৩
এইচ.এস.সি পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্র পরীক্ষায় তিনটি অংশ (বলবিজ্ঞান, তাপ এবং শব্দ) থেকে ১টি করে বিশদ প্রশ্নের সেট থাকবে (একটি করে অথবাসহ)। অর্থাত্ পূর্ণমানের উত্তর করতে হলে অবশ্যই প্রতিটি অংশ থেকে উত্তর করতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন বই এর প্রতিটি অংশ সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখা।
পরীক্ষায় প্রথমেই প্রদত্ত প্রশ্নগুলো খুব মনোযোগ সহকারে পড়বে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তুগুলো খুব ভালো করে চিন্তা করে নেবে। প্রতিটি অংশের উত্তর যথাযথভাবে প্রদান করতে হলে বিচক্ষণতার সাথে প্রশ্ন বাছাই করতে হবে।
সংজ্ঞা জাতীয় প্রশ্নের উত্তর যথাসম্ভব অল্পকথায় শেষ করবে। হতে পারে তা এক বা দুই লাইনে। তবে সাথে পারলে একক ও মাত্রা প্রদান করতে ভুলবে না। সঠিক উত্তরে পূর্ণ ১ নম্বরই পাবে, উত্তরের আকার যাই হোক না কেন। এই প্রশ্নের উত্তর বইতে যেভাবে আছে সেভাবেই লেখার চেষ্টা করবে।
বিশদ প্রশ্ন যদি বর্ণনামূলক তথা তত্ত্ব নির্ভর হয়, তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই প্রয়োজনীয় চিত্র সংযোজন করতে হবে (যদি বইতে দেয়া থাকে)। কারণ, এই প্রশ্নের উত্তরে ৫/৬ নম্বর থাকে। এক্ষেত্রে প্রশ্নে যা করতে বলা হবে অর্থাত্ প্রমাণ, দেখানো, বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ, মূল্যায়ন, ব্যাখ্যা কিংবা যথার্থতা যাচাই, তা সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। গাণিতিক সমস্যাবলীর ক্ষেত্রে প্রশ্ন ভালো করে পড়ে বুঝে নিতে হবে। কী কী দেয়া আছে আর কী বের করতে বলা হয়েছে তা সঠিকভাবে সংগ্রহ করে উপাত্ত হিসাবে লিখতে হবে। প্রয়োজনীয় সূত্র লিখে উপাত্তের মানগুলো সঠিক প্রতীকে বসিয়ে বিশ্লেষণ করে অংক শেষ করবে। যেহেতু এক্ষেত্রে ৪ নম্বর থাকে, তাই বেশি সংক্ষেপ করে অংক করবে না। অংক শেষে আলাদা করে উত্তর লিখবে।
যথাসম্ভব অপ্রাসঙ্গিকতা ছেড়ে সতর্কতার সাথে উত্তর প্রদান করবে। গাণিতিক প্রতিপাদন বেশি সংক্ষেপ করবে না। প্রশ্নে যেভাবে যা চাওয়া হবে, উত্তরের শেষে তাই লিখে শেষ করতে হবে। তাছাড়া প্রশ্নের চাহিদা অনুসারে উত্তরের আকার হবে, নম্বর অনুসারে নয়। সময়ের প্রতি যথেষ্ট খেয়াল রেখে উত্তর করতে হবে। মনে রাখতে হবে ৭৫ নম্বরের পরীক্ষায় সময় থাকে ৩ ঘণ্টা। অর্থাত্ ১ নম্বরের উত্তর করার জন্য বরাদ্দ থাকে মাত্র আড়াই মিনিট। প্রতিটি প্রশ্নের প্রতিটি অংশের উত্তর ধারাবাহিকভাবে দেয়ার চেষ্টা করবে, অর্থাত্ প্রথমে ‘ক’, তারপর ‘খ’, তারপর... এভাবে। তা না হলে কোন একটি অংশের উত্তর করতে ভুলে যেতে পার।
সর্বোপরি একটি কথা সবসময়ের জন্যই মাথায় রাখতে হবে যে, ভালো ফলাফলের জন্য বেশি বেশি পড়া এবং লিখার কোন বিকল্প নেই।