জীবননগরে সবজিবীজ উত্পাদনে নীরব বিপ্লব
মুন্সী মাহবুবুর রহমান বাবু, জীবননগর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৩, ২০:৫৬
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় সবজি বীজ উত্পাদন পাল্টে দিয়েছে অনেক কৃষকের ভাগ্য। বদলে দিয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র। এক সময় শুধু ইরি-বোরো ও আমন চাষের পাশাপাশি প্রচলিত কিছু শাক-সবজি চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কৃষিকাজ। কিন্তু এখন আধুনিক পদ্ধতিতে নানা জাতের সবজি আবাদ করে তা থেকে বীজ উত্পাদন করে কৃষকরা লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। ধানের জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি বীজ উত্পাদনে ব্যাপক সাফল্য এখানকার কৃষকদের মুখে হাসি এনে দিয়েছে। কৃষকদের কাছে এখন সবজি বীজ উত্পাদন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অল্প সময়ে স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভ করা যায় বলে প্রতিবছরই সবজি বীজ উত্পাদনে মেতে উঠছেন এখানকার কৃষকরা। এ কারণে উপজেলায় সবজি বীজ উত্পাদনে নীরব বিপ্লব ঘটেছে। ফলে এবছরও উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া, দেহাটি, কাশিপুর, অনন্তপুর, নিশ্চিন্তপুর, পুরন্দপুর, বাঁকা ও মুক্তারপুর গ্রামের প্রায় ১২শ’ হেক্টর জতিতে উচ্চ ফলনশীল নানা জাতের সবজি আবাদ করা হয়েছে এবং এর থেকে বীজ উত্পাদন করা হবে।
এ ব্যাপারে আন্দুলবাড়িয়া গ্রামের সফল সবজি বীজ উত্পাদনকারী বিজয় কুমার হালদার জানান, আজ থেকে ১২ বছর আগে এ এলাকায় প্রথম তিনি সবজি বীজ উত্পাদন শুরু করেন। ঐ বছর তিনি এক বিঘা জমিতে ১ হাজার টাকা খরচ করে উত্পাদিত বীজ প্রায় ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। ফলে অধিক পরিমাণ লাভ হওয়ায় পরের বছর তিনি জমির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেন। এ বছর তিনি ৫ বিঘা জমিতে সবজি আবাদ করেছেন এবং তা থেকে বীজ উত্পাদন করবেন। ৫ বিঘা জমিতে উত্পাদিত বীজ তিনি ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
বিজয় হালদার একা নন। তার দেখাদেখি অনেক কৃষক সবজি চাষ করে তা থেকে বীজ উত্পাদন শুরু করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ জানান, উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া এলাকার জমিগুলো সবজি চাষের জন্য বেশি উপযোগী। এখানকার চাষীরাও সবজি চাষের ব্যাপারে বেশ অভিজ্ঞ। এ কারণে এলাকার চাষীরা উন্নত কৃষি প্রযুক্তির আওতায় সবজি বীজ উত্পাদন করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন স্পন্দন এনেছেন।