সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান

দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ যুব মৈত্রী’র নেতৃবৃন্দরা। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তারা বলেছেন, জামায়াত-শিবিরের হত্যা, অগ্নিসংযোগের রাজনীতি এ দেশে করতে দেয়া যাবে না। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা যে অসাম্প্র্রদায়িক চেতনা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, সেই চেতনায় এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ যুব মৈত্রী পৃথক আয়োজনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এ সব কথা বলেন নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে ‘জামায়াত-শিবিরের হত্যা, সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ, মন্দির প্যাগোডা ভাঙচুরসহ ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানানো হয়। সমাবেশে সাম্প্র্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও সংখ্যালঘু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, দেশের অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংস করার জন্য বিএনপি-জামায়াত দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। বিরোধী দলীয় নেত্রী শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড দেশের অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং তিনি সেই হুমকিই দিচ্ছেন। তারা অবিলম্বে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহবান জানান। বক্তারা বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পরই দলটির কর্মী-সমর্থক দেশের বেশ কিছু জেলায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালায়। দেশের ২০টি জেলায় সংঘটিত এই ধ্বংসযজ্ঞে অন্তত ৫০টি মন্দির এবং এক হাজার ৫০০ ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে। এ আক্রমণের ফলে হিন্দু সম্প্রদায়টির কয়েক হাজার পরিবার পথে বসেছে। অশুভ শক্তি আজ সারা দেশেই তাণ্ডব চালাচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মন্দিরে আগুন এবং ভাংচুরের ঘটনা ঘটাচ্ছে। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা জাতীয় পতাকা ছিঁড়ছে, শহীদ মিনার ভাঙছে, গণজাগরণ মঞ্চে বোমা মারছে, কুপিয়ে মানুষ হত্যা করছে। তারা একাত্তরেও একই কাজ করেছে। বক্তারা ক্ষতিগস্ত পরিবারগুলোর সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে যথার্থ ক্ষতিপূরণ দেয়া এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করারও দাবি জানান। সেইসঙ্গে যেসকল রাজনৈতিক অপশক্তি ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়াচ্ছে এবং জন-নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে তাদের অবিলম্বে নিষিদ্ধ করাসহ তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ যাতে সমাজে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নুরুল হাসান, কামরুল হাসান, আবুল হোসেন, রাগিব হাসান মুন্না, আমিরুল হক, মোস্তফা আলমগীর রতন, মাহবুব আলম সোহেল, অ্যাডভোকেট ইমরান, বরুণ কুমার ঘোষ, মুর্শিদ আক্তার নাহার, হাজেরা সুলতানা, শিউলী শিকদার, আলী শিকদার প্রমুখ।