সোনার বাংলা গড়তে
সব সহযোগিতা দেবে
যুক্তরাষ্ট্র :মজীনা
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৩, ২১:৪৯
মার্কিন রাাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়তে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র এমন এক বাংলাদেশ দেখতে চায় যেখানে নারী-পুরুষের শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, পুষ্টি ও নিরাপদ বাসস্থানের নিশ্চয়তা থাকবে। প্রত্যেক তরুণ ভালো শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে এটা স্বপ্ন নয়, লক্ষ্য।
গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে খান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সপ্তম মহিলা আইনজীবী সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
চারটি অধিবেশনে বিভক্ত এই সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে নারী আইনজীবীদের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন ‘বেলা’র নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট রেজওয়ানা হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. ফজলুল করিম, কানাডার হাইকমিশনার হেথার ক্রুডেন। দ্বিতীয় অধিবেশনে গণমাধ্যম, আইন এবং নারী বিষয়ে আলোচনা করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান। তৃতীয় অধিবেশনে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে আলোচনা করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের বার্তা প্রধান খালেদ মহিউদ্দীন, বিশ্ব ব্যাংকের বিশেষজ্ঞ সুরাইয়া জান্নাত এবং সমাপনী ভাগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা, বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য হাফিজ আহমেদ মজুমদার প্রমুখ। প্রতিটি অধিবেশনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত আইনজীবীদের অভিজ্ঞতা বর্ণনাসহ মুক্ত আলোচনা পর্ব থাকে।
মজীনা প্রায় আড়াই শতাব্দী পূর্বে স্বাধীন হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মাত্র চার দশক আগে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারার তুলনা করার সময় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। তিনি আরো বলেন সত্যিকারের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন চাইলে নারীকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে। ৬৪ জেলার মহিলা আইনজীবীরা যারা আজ এখানে এসেছেন আপনাদেরকে বলছি, প্রাত্যহিক জীবনে যাতে পরস্পরকে সহায়তা করতে পারেন সেজন্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতেই এখানে এসেছেন। আপনারা নারীর প্রতি সহিংসতা, অশিক্ষিত নারীদের সুরক্ষা দিতে এখানে এসেছেন। নারীদের ‘মহাবীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ড্যান মজীনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আপনাদের এই সংগ্রামের অংশীদার। যুক্তরাষ্ট্র ন্যায়-বিচার, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রে সহায়তা করতে চায়।
সংসদ সদস্য এম হাফিজ আহমেদ মজুমদার বলেন, আমার মা নির্যাতিত ছিলেন কিন্তু আমার মেয়ে নির্যাতিত নয়। এ পরিবর্তন হয়েছে শিক্ষার কারণে। সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, মহিলাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিলেই নারীর অধিকার নিশ্চিত হবে না। সর্বক্ষেত্রে নারীদের সমান সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।
বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির তুলনা করে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ছিলো মাফিয়া এবং কালো টাকার মালিকদের কাছে জিম্মি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। সেখানে সুস্থ রাজনীতির চর্চা চলছে। অপরদিকে বাংলাদেশে চলছে নোংরা রাজনীতির খেলা। এই নোংরা রাজনীতির কারণেই বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা পেতে দেরী হবে।
প্রথম অধিবেশনে সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. ফজলুল করিম বলেন, আইনজীবী পেশা নারীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একত্রে কাজ করতে হবে। কানাডীয়ান রাষ্ট্রদূত হেথার ক্রুডেন তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ নারী। অর্থনীতি, মানবাধিকার, খেলাধুলা সর্বক্ষেত্রে নারীরা ভূমিকা রাখছে।
‘বেলা’র নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেন, পুরুষ বা নারী উভয়ের ক্ষেত্রে আইন পেশা চ্যালেঞ্জিং। এর জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করতে হয়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ও সমাপনী বক্তব্য দেন খান ফাউন্ডেশনের প্রধান নিবার্হী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার।