নমিনি ভোটার পদ্ধতি বহাল থাকা
নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৩, ২১:৫০
চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে নমিনি ভোটার পদ্ধতি মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ১০ দিন থাকলেও নমিনি ভোটার পদ্ধতি বহাল থাকা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া গত বৃহস্পতিবার নমিনি ভোটারের পক্ষে-বিপক্ষে উচ্চ আদালত থেকে দুইটি স্থগিতাদেশ পাওয়ায় তা নিয়ে দুইপক্ষ দুই ধরনের ব্যাখ্যা দিচ্ছে। অথচ ইতিমধ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুইটি প্যানেলের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার দুইটি প্যানেল থেকে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষণানুযায়ী সর্বশেষ ২১টি পদের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনের জন্য ইতিপূর্বে দুইটি তারিখ ঘোষণা করা হলেও ভোটার তালিকায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে উচ্চ আদালতে বেশ কয়েকটি পাল্টাপাল্টি মামলা দায়েরের ফলে নির্বাচন হতে পারেনি। সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে স্বচ্ছ ভোটার তালিকার মাধ্যমে ৩১ মার্চের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেয়া হয়। তারই প্রেক্ষিতে ৬ হাজার ৮ জন ভোটারের তালিকা ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম চেম্বারে ৪টি ক্যাটাগরি থেকে ২৪ জন পরিচালক নির্বাচিত হন।
এবার চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে মাহবুব- সেলিম এবং মোর্শেদ-ছালাম প্যানেল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মাহবুব-সেলিম প্যানেলকে সমর্থন করছেন সাবেক চেম্বার সভাপতি এমএ লতিফ এমপি। দুই প্যানেলে নেতৃত্বদানকারীদের সকলেই ইতিপূর্বে একই প্যানেলভুক্ত থাকলেও এবার তারা দুইটি প্যানেলে অবস্থান করছেন। চট্টগ্রাম চেম্বারের ৪টি ক্যাটাগরির মধ্যে অর্ডিনারি শ্রেণি থেকে ১২ জন পরিচালক, এসোসিয়েট শ্রেণি থেকে ৬ জন, টাউন এসোসিয়েশন থেকে ৩ জন এবং ট্রেড গ্রুপ থেকে ৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। তবে গত বুধবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন দেখা যায়, ট্রেড গ্রুপ থেকে মাত্র ৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এতে করে তারা সকলেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের সকলেই মাহবুব-সেলিম প্যানেলের প্রার্থী ছিলেন। বর্তমানে অর্ডিনারি গ্রুপ থেকে ১২টি পদের জন্য ২৫ জন, এসোসিয়েট শ্রেণি থেকে ৬টি পদের বিপরীতে ১১ জন, টাউন এসোসিয়েশনে ৩টি পদের জন্য ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে অলটারনেট বা নমিনি কর্তৃক ভোট প্রয়োগের পদ্ধতি বাতিল চেয়ে হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে রিট পিটিশন দাখিল করেন। গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি নাইমা হায়দার চৌধুরী ও বিচারপতি জাফর আহমদের সমন্বয় বেঞ্চ ভোটার তালিকায় ‘সেকেন্ড পারসন’ পদ্ধতি স্থগিতের নির্দেশ দেন।
এদিকে ১১ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টর ট্রেড অর্গানাইজেশন (ডিটিও) কর্তৃক নমিনি ভোট প্রয়োগ পদ্ধতি বাতিলে যে চিঠি দেয় চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক ও সাবেক লায়ন গভর্নর আনোয়ার শওকত আবছার ডিটিও-এর উক্ত চিঠির স্থগিতাদেশ চেয়ে রিট পিটিশন দাখিল করেন। বিচারপতি নাইমা হায়দার চৌধুরী ও বিচারপতি জাফর আহমদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ডিটিও’র চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করেন। তবে আনোয়ার শওকত আবছার ইত্তেফাককে জানান, তার আবেদনের প্রেক্ষিতে দুপুরে আদালত সবকিছু বিবেচনা করে ডিটিও’র চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। তাই চট্টগ্রাম চেম্বারের সংজ্ঞাবিধি অনুযায়ী নমিনি ভোট প্রদানের পদ্ধতি বহাল থাকবে।
কিন্তু অপর প্যানেল নেতা ও চট্টগ্রাম চেম্বারের বর্তমান সভাপতি মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিম জানান, ডিটিও’র চিঠি স্থগিতের সঙ্গে নমিনি ভোট প্রদানের পদ্ধতি বহাল থাকা এক নয়। এরশাদ উল্লাহর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত কর্তৃক নমিনি ভোট প্রদান স্থগিতের যে আদেশ প্রদান করেছে তার ফলে নির্বাচনে নমিনি ভোট প্রদানের পদ্ধতি বাতিল হয়ে গেছে। এদিকে চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন কমিশন দুইটি রিটের আদেশের কপি না পাওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত দেয়া সম্ভব নয় বলে জানান।