মনোহরগঞ্জে ট্রাক চাপায় ৮ স্কুল শিক্ষার্থী নিহত
আব্দুল গাফফার, মনোহরগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৩, ২২:৩০
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার দুপুরে কুমিল্লার লালমাই-নোয়াখালী মহাসড়কে মনোহরগঞ্জের নাথেরপেটুয়ার হাতিমারা নামক স্থানে নোয়াখালীগামী মালবাহী ট্রাক বিপরীত দিক থেকে আসা নাথেরপেটুয়া মডেল স্কুলের একটি ভ্যানকে চাপা দিলে স্কুল ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ৩ শিক্ষার্থী নিহত হয়। স্কুল ভ্যানে থাকা বাকী ৭ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো ৫ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। বাকী ২ জন শিক্ষার্থী ফাহমিদা আক্তার তমা, জুথি আক্তার ও ভ্যান চালক জয়নাল আবেদিনকে আশংকাজনক অবস্থায় কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের সকলের বাড়ী হাতিমারা গ্রামে।
জনতা ঘাতক ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রতিবাদে কুমিল্লার লালমাই-নোয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে স্থানীয় জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও যেকোন ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে ঘটনাস্থলে মনোহরগঞ্জ ও লাকসাম থানা পুলিশের পাশাপাশি লালমাই হাইওয়ে পুলিশ ও র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত শিশুদের মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনের কান্নায় ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে এক হূদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিহত শিশুদের লাশ দেখতে ভিড় জমান বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। এ সময় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতরা হলো হাতিমারা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের ছেলে রাকিবুল হাসান রাকিব, সেলিম মিয়ার ছেলে টিপু সুলতান স্বাধীন, ব্যবসায়ী আবু তাহেরের ছেলে হাসিবুল হাসান নিহাদ ও মেয়ে তিনা, মাহবুবুল ইসলামের ছেলে ফাহাদুল ইসলাম মিথন, জহিরুল ইসলামের মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া শোভা, আব্দুল মালেকের ছেলে আল-আমিন।
লাকসাম সংবাদদাতা আবদুল কুদ্দুস জানান, খরব শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলাম। তিনি দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সান্ত্বনা এবং সমবেদনা জানান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম, এএসপি সার্কেল জাহাঙ্গীর আলম, মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহেদুর রহমান, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহিরুল আনোয়ার।