সংলাপের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে লিখিত প্রস্তাব দিতে হবে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোনো বায়বীয় প্রস্তাবে সংলাপ হতে পারে না। সংলাপ নিয়ে সরকার দ্বৈতনীতিতে। একদিকে সরকারের মন্ত্রীরা সংলাপের কথা বলছেন অন্যদিকে বিরোধীদলের ওপর সরকার বিরামহীনভাবে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। সরকার সঙ্কট সমাধানে সংলাপ চায় কিনা তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ আছে। তারপরও সরকার প্রধান সংলাপের আনুষ্ঠানিক বা লিখিতভাবে প্রস্তাব দিলে বিএনপি দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। জামায়াতকে বাদ দিয়ে সংলাপে আসতে বিএনপির প্রতি আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ যে আহ্বান জানিয়েছেন সে বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা কারও নির্দেশে রাজনীতি করি না। কাকে বাদ দিয়ে যাব বা না যাব সেটি আমাদের ব্যাপার।’ ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানের লক্ষ্যে সরকার সত্যিই সংলাপ চাইলে আগে এরজন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আর পরিবেশ তখনই সৃষ্টি হবে যখন সরকার বিরোধীদলের ওপর ‘দমন-পীড়ন’ বন্ধ করবে। তিনি বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে আমরা আগামী নির্বাচন চাই। এই দাবিতে সব বিরোধীদল আজ ঐক্যবদ্ধ। আন্দোলনের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই এই সরকারের পতন ঘটানো হবে। তিনি বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত ছিল আটক নেতাদের গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে মুক্তি না দিলে ১৮ ও ১৯ মার্চ হরতাল হবে। সরকার আমাদের দাবির প্রতি কর্ণপাত করেনি। তাই ঘোষিত হরতাল হবেই। টানা এই ৪৮ ঘণ্টার হরতাল সফল করতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার ও নিপীড়নের প্রতিবাদে আজ ১৭ মার্চ সারাদেশে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। ফখরুল অভিযোগ করেন, সরকার দেশকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তারা বিরোধীদল দমনের ‘নীতি’ অনুসরণ করছে। গত ২২ দিনে সারাদেশে অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৪০ জনের বেশি মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হাজার-হাজার মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। ঐসব মামলায় আড়াই লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এমনকি কম্বিং অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে, বাড়ি ছাড়া করছে। এটা ‘অশনি সংকেত’। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বিরোধীদলকে যেভাবে দমন করত এখন সে আলামতই দেখা যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানকেও বারবার গ্রেফতার করা হয়েছিল, দমন-পীড়ন করা হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষ তার সঙ্গে ছিল। এখন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেও সাধারণ মানুষ জেগে উঠেছে। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করীম শাহিন, এম এ মালেক, আমিরুল ইসলাম খান আলীম প্রমুখ।