বাইব্যাক ও শেয়ারধারণের তথ্য চেয়ে এসইসিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজারে ছাড়া শেয়ার পুনঃক্রয় বা ‘বাইব্যাক’ পদ্ধতি ও পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ারধারণের বিষয়টি কোম্পানি আইন-১৯৯৪ এর সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, কোম্পানি আইন-১৯৯৪ সংশোধন করে ‘বাইব্যাক’ পদ্ধতি এবং কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালক সম্মিলিতভাবে সবসময় ওই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ এবং প্রত্যেক পরিচালক (স্বতন্ত্র/মনোনীত পরিচালক ব্যতীত) কমপক্ষে ২ শতাংশ শেয়ারধারণ করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি বিএসইসির কাছ থেকে জানা যায়নি। এ অবস্থায় কোম্পানি আইন-১৯৯৪ সংশোধনের মাধ্যমে ‘বাইব্যাক’ পদ্ধতি এবং কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকের শেয়ারধারণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্তকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। জানা গেছে, বিএসইসির খসড়ায় কোম্পানির অতিরিক্ত মূলধন (ফ্রি রিজার্ভ) অথবা সিকিউরিটি প্রিমিয়াম ব্যবহারের মাধ্যমে শেয়ার বাইব্যাক করার প্রস্তাব রাখা হয়। এছাড়া বাইব্যাক সম্পন্ন করার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে কোম্পানির ক্রয়কৃত সিকিউরিটিজ বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে। বাইব্যাক সম্পন্ন করার পরবর্তী দু’বছর পর্যন্ত বোনাস শেয়ার বাদে কোম্পানি মূলধন বাড়াতে পারবে না। বাইব্যাক অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিএসইসির তৈরি করা খসড়ায় কোম্পানির সিদ্ধান্ত নেয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যে নির্ধারিত বাইব্যাক সম্পন্ন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান সিকিউরিটিজ ধারকদের কাছ থেকে আনুপাতিকহারে বা নিয়মিত বাজার অথবা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির অডলট শেয়ার থেকে বাইব্যাক সম্পন্ন করতে পারবে। মোট পরিশোধিত মূলধন ও ফ্রি রিজার্ভের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাইব্যাক করা যাবে। তবে কোম্পানির দায়ের পরিমাণ এর মোট মূলধন ও ফ্রি রিজার্ভের দ্বিগুণের বেশি হলে বাইব্যাক করা যাবে না। এছাড়া কোম্পানি কোনো ব্যাংকের দেনা ও সুদ, ডিবেঞ্চার বা অগ্রাধিকারভুক্ত শেয়ারের ওপর অর্জিত সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাইব্যাকের সুবিধা গ্রহণে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হলেও শেয়ার বাইব্যাক করতে পারবে না। বিএসইসির তৈরি খসড়ায় বাইব্যাক সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী একবছর কোম্পানিটি দেউলিয়া হবে না এ মর্মে ঘোষণা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জানা যায়, তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকের ২ শতাংশ শেয়ারধারণ বাধ্যতামূলক রেখে কোম্পানি আইন শিগগিরই সংশোধন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা-পরিচালকের সম্মিলিতভাবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শেয়ার সবসময় ধারণ করতে হবে। এর কোনো ব্যতিক্রম হলে কোম্পানি আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।