নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে আজ বসছে এনবিআর

নতুন মূল্য সংযোজন কর আইন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ও কৌশল নিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে আজ বসছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অণুবিভাগ। গত নভেম্বর মাসের শেষ দিকে সংসদে নতুন ভ্যাট আইন পাস হয়। আইনটি পাসের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে দাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আইএমএফের চাপে এবং আইনটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে নতুন আইনে বেশকিছু ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মতবিরোধ রয়েছে। নতুন এ আইন বাস্তবায়ন করতে হলে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে এবং এসব চ্যালেঞ্জ কীভাবে মাঠ পর্যায়ে মোকাবেলা করতে হবে তা নিয়ে আজকের বৈঠকে আলোচনা হবে। বৈঠকে কমিশনারসহ উচ্চ পর্যায়ের ভ্যাট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এনবিআর সদস্য (ভ্যাট নীতি) ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, নতুন আইন বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে এই সভা হবে। এতে সকল কমিশনাররা উপস্থিত থাকবেন। জানা গেছে, নতুন আইনটি বাস্তবায়ন শুরু হলে প্যাকেজ পদ্ধতিতে ভ্যাট দেয়ার বর্তমান প্রথা আর থাকবে না। বর্তমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিক্রয়ের জন্য বার্ষিক সংকুচিত ভিত্তি মূল্যে (প্যাকেজ প্রথা) ভ্যাট প্রদান করছেন। নতুন আইনে কেবল আইএমএফের জোরালো চাপের কারণে এই প্রথা বাতিল করার ধারা যুক্ত করা হয়। সেই সাথে সব ব্যবসায়ীর জন্য একই হারে ভ্যাট আরোপের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এই দুইটি ধারাসহ নতুন আইনের আরো কয়েকটি বিষয়ের জোরালো বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের দাবি, নতুন এই আইন কার্যকর হলে ব্যবসায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যদিও নতুন ভ্যাট আইন এখনই বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে না। আইনটি পাস হওয়ার তিন বছর পর থেকে নতুন এই আইন বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে সে বিষয়টি নিয়ে এখনই ভাবতে শুরু করেছে এনবিআর। এই সময়ের মধ্যে নতুন আইন বাস্তবায়নের বিষয়ে ব্যবসায়ী ও ভ্যাট আদায়কারী কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে অভ্যস্ত করে নেয়ার কার্যক্রম চলবে। এরই অংশ হিসেবে বড় ক্রয়-বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে (বার্ষিক ৫০ লাখ টাকার বেশি) এনবিআর নির্দেশিত সফটওয়্যার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে গত জানুয়ারি মাস থেকে। বর্তমানে ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইনের অধীনে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে। আইএমএফের চাপে নতুন আইনটি মূলত পাস করা হয়। এনবিআরও মনে করছে, বিদ্যমান ভ্যাট আইনের অনেক দুর্বলতা রয়েছে যার কারণে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ভ্যাট সরকারের ঘরে আনা যাচ্ছে না। চলতি ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ভ্যাট খাত থেকে এককভাবে সবচেয়ে বেশি ৪০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে এনবিআর। তবে এনবিআরের হিসাবে গত জুন থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে এই খাত লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশ খানিকটা পিছিয়ে রয়েছে।