নারী বা পুরুষতান্ত্রিক নয়, চাই মানুষতান্ত্রিক সমাজ
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৩, ১৯:২০
বরাবরের মতো এ বছরও বর্ণাঢ্য র্যালী ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমপন্ন হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইম্যান এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের নারী দিবস উদযাপন। সাপ্তাহকাল ধরে চলে এই অনুষ্ঠান।
৮ই মার্চ বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত নারী জাগরণ মঞ্চের সাথে একাত্মতা ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। এই দিন বিভাগীয় শিক্ষক ও শীক্ষার্থীরা এক হয়ে দাবি জানান নারী মুক্তির জন্য। পরবর্তী দিন এক বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে শুরু হয় কার্যক্রম। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আআমস আরেফিন সিদ্দিক, উইম্যান এন্ড জেন্ডার স্ট্যাডিজের বিভাগীয় চেয়্যারম্যান তানিয়া হক, শিক্ষকমন্ডলী এবং বিভাগীয় শিক্ষার্থীবৃন্দ। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন চত্বর প্রদক্ষিণ করে। পরবর্তী দিন ৯ মার্চ বিভাগীয় খন্ডকালীন শিক্ষক ও নারী নেত্রী ড. মালেকা বেগম বাংলাদেশের মানবাধিকার ও নারীদের নিয়ে যে সকল বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে তাদের অবস্থান, গুরুত্ব ও কর্মকান্ডের উপর একটি গবেষণাধর্মী কর্মশালা পরিচালনা করেন। বিভাগীয় শিক্ষার্থীরা চারটি দলে ভাগ হয়ে প্রতিনিধিত্বকারী চারটি বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রম তুলে ধরেন।
১১ মার্চ উইম্যান স্টাডিজ ফিল্ম ক্লাব চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে। এছাড়া বিভাগে একটি গোল টেবিল আলোচনা হয়। এ সময় আলোচকরা নারীর এগিয়ে যাওয়া নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিভাগীয় চেয়্যারম্যান ড তানিয়া হক বলেন, আমরা পুরুষতান্ত্রিক বা নারীতান্ত্রিক সমাজ নয়, চাই মানুষতান্ত্রিক সমাজ। বিভাগ সমপর্কে তিনি বলেন, দক্ষ সমাজকর্মী গড়ে তোলার জন্যই উইম্যান স্টাডিজ বিভাগ কাজ করছে। তাই সরকারে উচিত সবগুলো পাবলিক ও বেসরকরি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিভাগটি চালুর সুযোগ করে দেয়া। আলোচনায় যৌন সহিংসতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ সমপর্কে তিনি বলেন, আমরা শুধু মিডিয়ার উপর নির্ভর করতে পারি না। কারণ প্রতিনিয়ত এতো বেশি ঘটনা ঘটছে যে, একটা বিষয় নিয়ে বেশিদিন লেখা সম্ভব নয়। ফলে অনেক ঘটনাই চাপা পড়ে যায়। তাই এ বিষয়ক রিপোর্টগুলো সরকারি ও বেসরকারিভাবে সময়োপযোগী রাখা উচিত। যৌন সহিংসতার পেছনে তিনি কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেন। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো সোস্যাল স্টিগমা। এর ফলে কোনো নারী সহিংসতার শিকার হলেও লজ্জার কারণে অনেক কিছু বলতে পারে না, ফলে অপরাধকারীও পুনরায় অপরাধের সুযোগ পায়। সহিংসতা বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হলো আমরা সব সময় শিক্ষিত সমাজকেই আমাদের সঙ্কটে ডাকি। আর আমরা শিক্ষিত সমাজকে মান দিয়ে বিবেচনা না করে হার দিয়ে বিবেচনা করি, ফলে অনেক শিক্ষিতই আজ নারী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে। আর রাজনীতিবিদদের দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের অভাবও নারী সহিংসতা বৃদ্ধির আরেকটি অন্যতম কারণ।