এইচএসসি পরীক্ষা ২০১৩
বাংলায় সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনিতে ভালো করার আরও কিছু কৌশল
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন সিনিয়র শিক্ষক বীরশ্রেষ্ঠ নূরমোহাম্মদ পাবলিক কলেজ ঢাকা
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৩, ১৯:২১
প্রিয় শিক্ষার্থীবন্ধুরা,আজকের এখন, আমরা বাংলায় সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনিতে ভালো করার কিছু কৌশল জানবো :
সৃজনশীল অংশ : প্রশ্ন থাকবে ৯টি উত্তর করতে হবে ৬টি মোট নাম্বার ৬০। গদ্যাংশ থেকে মোট তিনটি সৃজনশীল প্রশ্ন থাকবে যেখান হতে উত্তর করতে হবে ২টি সৃজনশীল প্রশ্নের। পদ্যাংশ থেকে ৩টি সৃজনশীল প্রশ্ন থাকবে উত্তর করতে হবে ২টি সৃজনশীল প্রশ্নের। উপন্যাস পদ্মানদীর মাঝি থেকে প্রশ্ন থাকবে ৩টি উত্তর করতে হবে ২টি সৃজনশীল প্রশ্নের। একটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরে (১+৫+১২+১৫) সর্বোচ্চ ৩৫ বাক্য উত্তরের ক্ষেত্র হতে পারে।
ক. জ্ঞানমূক অংশ : প্রদত্ত নাম্বার-১ [পাঠ্য বই হতে এক কথায় বা এক বাক্যে সঠিক উত্তর দিবে; এখানে কোনো বিষয় ভিত্তিক বিশ্লে¬ষণের দরকার নেই]
খ. অনুধাবনমূলক : প্রদত্ত নাম্বার-২ (১+১) [অংশ দুটি : জ্ঞানমূলকে-১ চিন্তন বিশ্লে¬ষণে-১। [প্রশ্নে যা চাইবে এক কথায় উত্তরের আসলবস্তু জ্ঞান আকারে লেখবে আর দ্বিতীয় প্যারাতে বিশ্লেষণ করে সেটা সর্বোচ্চ ৩-৪ লাইন হলে ভালো হয়। মনে রাখা প্রয়োজন অনুধাবনমূলক প্রশ্নে উত্তরের ক্ষেত্রে সব মিলে ৫বাক্যে শেষ করা শ্রেয়।]
গ. প্রয়োগমূলক অংশ : প্রদত্ত নাম্বার-৩ (১+১+১) [এখানে তোমাকে তিনটি অংশ বা প্যারা করে লিখলে ভালো হবে। অংশগুলো হলো : *উত্তরের শুরুতেই মূল উত্তরটুকু অর্থাত্ জ্ঞানমূলক আকারে ১বাক্যে উত্তর লেখার চেষ্টা করবে। এরপর প্রশ্নে চাওয়া বিষয়ের সাথে মূল পাঠ্যের সম্পর্ক নিরূপণের প্রয়াস পেতে হবে; যাকে ব্যাখ্যেয় অংশ বলা যেতে পারে। প্রয়োগের তৃতীয় অংশ অবশ্যই সম্পর্ক নিরূপণের ক্ষেত্রে প্রকৃত সমস্যার সমাধান করতে হবে। যা উদ্দীপক এবং মূলপাঠ্যকে একটি নিবিড় সম্পর্কের জালে ফেলবে। এটি হলো অর্জিত জ্ঞান এবং অনুধাবন নতুন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার ক্ষমতা। ১ম প্যারা ১বাক্য; ২য় প্যারা-৩/৪বাক্য আর তৃতীয় প্যারা-৭/৮বাক্য হতে পারে। এখানে সর্বোচ্চ ১২ বাক্য লিখতে পারবে।
ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক : প্রদত্ত নাম্বার-৪ (১+১+১+১) [এখানে তোমাকে চারটি অংশ বা প্যারা করে লিখতে হবে। অংশগুলো হলো : উত্তরের শুরুতেই মূল উত্তরটুকু অর্থাত্ জ্ঞানমূলক আকারে ১বাক্যে উত্তর লেখার চেষ্টা করবে।*দ্বিতীয় প্যারাতে প্রশ্ন মোতাবেক উদ্দীপক ধরে চিন্তন শক্তি ব্যাখ্যা করবে *তৃতীয় প্যারাতে উদ্দীপক ও মূল পাঠ্যের সম্পর্কগত আলোচনা করবে *চতুর্থ প্যারাতে সার্বিক বিশ্লেষণ করবে সেক্ষেত্রে উদ্দীপক, মূলপাঠ্য বিষয় ও পারিপার্শ্বিক জীবন ব্যবস্থার সাথে মিল রেখে তোমার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারো। ১ম প্যারা ১বাক্য; ২য় প্যারা-২/৩বাক্য আর তৃতীয় প্যারা-৪/৫বাক্য ৬ষ্ঠ প্যারা-৭/৮বাক্য। হতে পারে। এখানে সর্বোচ্চ ১৫ বাক্য লিখতে পারবে।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন : মোট প্রশ্ন ৪০ মোট নাম্বার ৪০ সময় ৪০মি.
তোমাদের তিনটি স্তর পার করে তবেই মোট ৪০টি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। মূল বই বারবার পড়ে গুরুত্বপূর্ণ লাইনের নিচে দাগ দিয়ে রাখবে। শব্দার্থ ও টীকা বার বার পড়বে। কবিতা, প্রবন্ধ বা গল্পের মূল বিষয়বস্তু অবশ্যই তোমাকে বের করতে হবে। দেশের খ্যাতনামা স্কুলের প্রশ্ন মাথায় রাখতে পারো। অহেতুক বাজে টেনশন এধর্মী পরীক্ষাকে বার বার খারাপ করায়। সেক্ষেত্রে নিজেকে মানসিক চাপমুক্ত রাখা নৈর্ব্যক্তিকের ক্ষেত্রে খুব প্রয়োজন, তাড়াহুড়া, দ্রুত পড়া, অবহেলা বা বন্ধুর সাথে হলে বসে আড্ডাস্বরূপ অবহেলা পরীক্ষাকে খারাপ করবে। কবি বা লেখকের জন্মস্থান, জন্ম মৃত্যু সাল, তাঁর রচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনার বা গ্রন্থের নাম মনে রাখবে। উচ্চমাধ্যমিকের ক্ষেত্রে টীকা জানা একটি জরুরি বিষয়; টীকাংশ থেকে বার বার একাধিক প্রশ্ন আসতে দেখা যায়। এ অংশের মান বন্টন হলো : গদ্যাংশ থেকে মোট ২৪টি প্রশ্ন থাকবে এবং কবিতাংশ থেকে ১৬টি প্রশ্ন থাকবে। উপন্যাস পদ্মা নদীর মাঝি হতে কোনো বহুনির্বাচনি প্রশ্ন থাকবে না। বর্তমান ক্যাটাগরিতে যে তিনটি স্তর তোমাদের পার করতে হবে তাহলো :
(ক) সাধারণ বহুনির্বাচনি অংশ : এ অংশ জ্ঞানভিত্তিক স্মৃতি নির্ভর। এক্ষেত্রে প্রশ্নগুলো কখনো প্রশ্ন আকারে আবার কখনো
অসম্পূর্ণ বাক্য হিসেবে দেওয়া থাকে যা উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। বিকল্প উত্তর ৪টি, যার মাত্র একটি সঠিক। এ বিভাগে জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা এ ৪টি উপবিভাগ বিদ্যমান থাকে। মূল বই বার বার পড়লে এখান থেকে ১০০% নাম্বার আদায় করা সম্ভব।
(খ) বহুপদী সমাপ্তিসূচক প্রশ্ন : এ অংশ জ্ঞানভিত্তিক স্মৃতি নির্ভর নয়। পরীক্ষা ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি আমাদের দেশে নতুন। এ ধরনের প্রশ্নে শুরুতে ৩টি তথ্য ভিত্তিক উপাস্থাপন থাকে। এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে পরে ৪টি প্রশ্ন তৈরি করা হয়, রোমান বর্ণে বরাদ্ধ এ প্রশ্নে অনেক সময় একাধিক উত্তর থাকে যার উত্তর প্রদত্ত চারটি প্রশ্নে বিদ্যমান। অতি নিখুঁতভাবে ভেবে এখানে উত্তর করতে হবে তোমাদের। এ স্তরে অনুধাবন, প্রয়োগ, উচ্চতর দক্ষতা যাচাই করতে হয়।
(গ) অভিন্ন তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন : এখানে একটি উদ্দীপক পাবে, যার মাধ্যমে তোমাকে তথ্য সরবারহ করা হবে। প্রশ্নগুলোর সাথে একে অপরের মিল দেখতে পাওয়া যাবে। ভয় পাবে না—ভাবলেই দেখবে এখানে সাধারণ বহুনির্বাচনি বা বহুপদী সমাপ্তিসূচক প্রশ্নই হয়ে থাকবে। যদি দেখো, উদ্দীপক বড় ঘাবড়াবে না। বড় উদ্দীপক হলে এখান থেকে জ্ঞান বা অনুধাবনমূলক প্রশ্নও আসতে দেখা যায়। তবে এখান থেকে মূলত প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতাকে যাচাই করা হয়। পারত পক্ষে এখান থেকে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন হয় না। উদ্দীপকটি ভালোভাবে পড়বে এবং মূল বইকে অনুসরণ করবে তাহলেই এ পর্বে তুমি নিশ্চিত ভালো করবে।