এইচএসসি পরীক্ষা ২০১৩

হিসাববিজ্ঞানে ভালো ফলাফল পাওয়ার কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ

সুপ্রিয় এইচএসসি পরীক্ষার্থীবৃন্দ তোমরা এরই মধ্যে পরীক্ষার রুটিন পেয়ে গেছ। চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে হিসাববিজ্ঞানের একজন শিক্ষক হিসেবে এবিষয়ে ভালো ফলাফল বা A+ পাওয়ার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ তুলে ধরছি : থিউরিগুলো যথাযথ এবং প্রাসঙ্গিকভাবে লিখতে হবে। মনে রাখতে হবে A+ নম্বরের জন্য থিউরিগুলোই অনেক সময় নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়। প্রায়োগিক সমস্যাগুলোর উত্তর একটু ভেবে চিন্তে করতে হবে। জাবেদাগুলোর সংক্ষিপ্ত কারণ উল্লেখ করতে হবে। প্রতিটি অংকের জন্য প্রয়োজনীয় ঘর অংকন করে তা যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে ঘরের শিরোনামগুলো যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। কারণ, এক্ষেত্রে শিরোনাম যদি যথাযথ পূরণ না হয় তাহলে নম্বর কাটা যাবে। দু’ঘরা ও তিনঘরা নগদানের ক্ষেত্রে কন্ট্রা (Contra) এন্ট্রিগুলো সঠিকভাবে Posting দিতে হবে। খুচরা নগদানের ক্ষেত্রে প্রতিটি খরচের সঠিক শিরোনাম নিশ্চিত করতে হবে। সমন্বয় জাবেদার ক্ষেত্রে বকেয়া খরচ, বকেয়া আয়, অগ্রিম খরচ, অগ্রিম আয়, সমাপনী মজুদ, বিজ্ঞাপন খরচ, অবচয় এবং অনাদায়ী দেনা এই বিষয়গুলো বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। চূড়ান্ত হিসাব এবং একতরফা দাখিলা পদ্ধতির ক্ষেত্রে সতর্কভাবে সমন্বয় এন্ট্রিগুলোর পোস্টিং দিতে হবে। সমন্বয় এন্ট্রি পোস্টিং দেয়ার ক্ষেত্রে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, সমন্বয় লেনদেনগুলোর পোস্টিং যাতে কমপক্ষে দু’বার হয়। বিনিময় বিলের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে প্রতিটি হিসাব এর সাথে দু’টো পক্ষ জড়িত থাকে একটি পক্ষ সঠিক এবং অপর পক্ষ ভুল হলে আনুপাতিক হারে নম্বর কাটা যাবে। তাই এক্ষেত্রে প্রতিটি পক্ষের জাবেদা সঠিক হওয়া বাঞ্ছনীয়। শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে জাবেদা সঠিক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষভাবে বিভিন্ন কিস্তিতে প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ এবং বকেয়া ও অগ্রিম টাকার পরিমাণ সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে। অংশীদারি কারবারের ক্ষেত্রে সঠিক এবং পূর্ণ গণনা কার্য দিতে হবে, কারণ এক্ষেত্রে গণনা কার্য ভুল হলে বাকী হিসাবগুলোতেও ভুল হবে। বেতন ও মজুরি বিবরণীর ক্ষেত্রে উপার্জন ও কর্তনগুলো সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে। কর্মহার পদ্ধতির অংশগুলোর ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম একক প্রতি মজুরি নির্ণয় করতে হবে এরপর একক প্রতি মঞ্জুরিকৃত মজুরি নির্ণয় করতে হবে। অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়গুলো ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে এবং প্রতিটি সমন্বয় যেন দু’বার পোষ্টিং হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। চাঁদা সংক্রান্ত সমন্বয়গুলোর জন্য বেশি মনোযোগ দিবে হবে। প্রারম্ভিক মূলধন তহবিল সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে। প্রারম্ভিক মূলধন তহবিল ভুল হলে বাকী অংশগুলো ভুল হবে। ছাত্রী-ছাত্রীদেরকে চূড়ান্ত হিসাব সর্বপ্রথম উত্তর না করার জন্য বিশেষভাবে বলা গেল। যে সমস্ত অংকগুলো তুলনামূলকভাবে কম সময় লাগে সেগুলো প্রথমে অর্থাত্- ১মপত্রে জাবেদা, সমন্বয় দাখিলা প্রথমে এবং ২য়পত্রে বেতন ও মজুরি সর্বপ্রথম উত্তর করা যেতে পারে। চূড়ান্ত হিসাব, একতরফা, অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের অংকগুলোর চূড়ান্ত ফলাফল সর্বপ্রথম কাঠপেন্সিল দিয়ে বসিয়ে দেখা যেতে পারে অংক মিল্ল কিনা, যদি অংক মিলে তাহলে কাঠপেন্সিলের লেখা রাবার দিয়ে ঘষে তুলে সেখানে কলম দিয়ে ফলাফল বসাতে হবে। সর্বশেষ, যদি কোন অংক প্রথমে না মিলে তাহলে সে অংকটি সেখানেই আপাতত: বন্ধ রেখে পরবর্তী অংকগুলোর উত্তর করা উচিত। সব অংক উত্তর করা শেষে যে অংকটি মিলল না সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে মিলাতে হবে। মনে রাখতে হবে পরীক্ষার হলে সময় কিন্তু সীমাবদ্ধ। সকল বিষয়ই ভাল ফলাফল ও জানার জন্য সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইরেজিতে জিপিএ-৫ নিশ্চিত করতে পারলে ভবিষ্যতে এর সুফল পাওয়া যাবে। কমিউনিকেটিভ ইংরেজির প্রশ্নপত্রে কোনো বিকল্প প্রশ্ন থাকে না। সেজন্য বর্ণনামূলক অংশগুলো যথাসম্ভব উত্তর করে আসতে হবে। সহজ ভাষায় নিজের মতো করে লিখলেও ভাল নম্বর পাওয়া সম্ভব।