কাতার: ধনী দেশের তালিকায় শীর্ষে
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৩, ২০:২১
সম্পদ যদি শক্তি হয় তাহলে আপনাকে উপসাগরীয় দেশ কাতারকে সমীহ করে চলতেই হবে। পারস্য উপসাগরের এ দেশেটির জনসংখ্যা মাত্র ১৭ লাখ। কিন্তু এর সম্পদের পরিমাণ শুনলে আশ্চর্য না হয়ে উপায় নেই। শুধু প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ভর করে দেশটি তার সম্পদের পরিমাণ বাড়িয়ে চলেছে। সমপ্রতি ফোবর্স ম্যাগাজিন সম্পদশালী দেশের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, কাতারের মতো দেশ পৃথিবীর সব দেশকে পেছনে ফেলে তালিকার এক নম্বরে উঠে এসেছে। এখানকার নাগরিকরা যা খরচ করেন তা শুনলে মাথা খারাপ হবার যোগাড়। দেশটির একজন নাগরিক বছরে গড়ে আয় করেন ৮৮ হাজার মার্কিন ডলার। প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস রিজার্ভের কথা চিন্তা করলে কাতারের অবস্থান বিশ্বের মধ্যে তৃতীয়। দেশটি তার সামুদ্রিক বন্দরের ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসকে সিলিন্ডারজাত করে রফতানি বাড়িয়ে চলেছে। গত কয়েক বছরে এ খাতে উল্লেখযোগ্য হারে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে দেশটি। এছাড়া অর্থনীতির বিকেন্দ্রীকরণে দেশটি প্রতিনিয়ত বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছে। ফিনান্সিয়াল হাব দুবাই দেশটির কাছে হওয়ায় তার সুযোগও নেয়া হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামী-দামী কোম্পানিগুলো দুবাই থেকে তাদের অফিস সরিয়ে নিয়ে দোহায় তা স্থাপন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নামী-দামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কাতারে তাদের স্যাটেলাইট ক্যাম্পাস স্থাপন করছে। সরকারের সহায়ক নীতি ব্যবসায়ীদেরকে এখানে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করছে। গভীর সমুদ্র বন্দর, ব্যাপক অবকাঠামো, বিভিন্ন এয়ারপোর্ট এবং রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ এখানে চলে দ্রুতগতিতে। ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অবকাঠামো উন্নয়নের যে ধারা কাতারে চলছে তা দেশটিকে নিয়ে যাবে অন্য উচ্চতায়। কাতার সরকার যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তা হলো বিদেশি বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা। এ কাজটি করার মাধ্যমে তারা বিশ্বকে জানান দিচ্ছে কাতার বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ স্থান। তবে এক্ষেত্রে কাতারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আছে ইরানের ওপর পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনৈতিক অবরোধ। এর ফলে জ্বালানির দাম যেমন বেড়েছে সাথে সাথে জ্বালানির জন্য কাতারের অন্য দেশগুলোর ওপর নির্ভরতাও বেড়েছে।
সম্পদশালী দেশের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে লুক্সেমবার্গ। দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ৫ লাখ। তাদের বছরে মাথাপিছু গড় আয় ৮১ হাজার মার্কিন ডলার। লুক্সেমবার্গকে বলা হয় ফিনান্সিয়াল হাব। এখানে টাকা রেখে যে কেউ নিরাপদ থাকতে পারেন। কারণ দেশটির ব্যাংকিং গোপনীয়তা আইন আপনাকে আপনার অর্থের সুরক্ষা দেবে। এজন্য পৃথিবীর তাবত্ ধনীরা এখানে অর্থ রাখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। অধিক সম্পদশালী দেশের তালিকায় তৃতীয় অবস্থান সিঙ্গাপুরের। প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং আর্থিক দিক বিবেচনায় দেশটি এগিয়ে চলেছে দ্রুতগতিতে। এখানকার লোকদের বার্ষিক গড় আয় ৫৬ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার। ফোবর্স ১৮২টি দেশের জনসংখ্যার আয়ের দিকটি বিবেচনায় এনে সম্পদশালী দেশের তালিকা তৈরি করেছে। ফোবর্সের তালিকায় চতুর্থ সম্পদশালী দেশের তালিকায় আছে নরওয়ে। পৃথিবীর অন্যতম বড় গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ নরওয়ের অধিবাসীদের বার্ষিক গড় আয় ৫২ হাজার মার্কিন ডলার। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ব্রুনাই। পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদে ভরপুর দেশটির মানুষের গড় আয় ৪৮ হাজার মার্কিন ডলার।