স্বপ্নের চীন দেখতে চান জিনপিং

 দক্ষিণে গুয়াংডং প্রদেশের বৃহত্তম শেনজেন শহরকে ‘বিশেষ অথনৈতিক অঞ্চল’ হিসাবে গড়ে তোলা হবে, যা চীনের অথনৈতিক বিপ্লবের ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা পালন করে।  প্রধান অগ্রাধিকার হবে অর্থনেতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা। আর এখানে যে অসাম্য রয়েছে তা দূর করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।  সামরিক শক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের এক্ষেত্রে আরো সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। কেননা জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য এর বিকল্প কিছু নেই। চীনের নতুন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার প্রথম ভাষণে বলেছেন, চীনের মহানবজাগরণের জন্য লড়াই করবেন। গতকাল রবিবার ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের সমাপনী অধিবেশনে তিনি একথা বলেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার শিনপিং বলেন, আমি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। কেননা স্বপ্নহীন জীবন কখনোই মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারে না। আমি চীনকে আমার স্বপ্নের ঠিকানায় নিয়ে যেতে চাই। আমি চাই একটা শক্তিশালী চীন গড়ে তুলতে যা বিশ্বের কাছে সব সময়ই মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আর এ জন্য সব চেষ্টা চালিয়ে যেতে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তার অনেক বক্তব্যে ফুটে উঠেছে চীনের নবজাগরণের কথা। তিনি বলেন, চীন সেই লক্ষ্যেই পৌঁছাতে চায় যেখানে তার যাওয়ার কথা। আর এটা আমাদের অধিকারের জায়গা থেকেই বলতে হচ্ছে সেখানে আমাদের যেতে হবে। রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে শনিবারে প্রথম বক্তৃতায় তিনি চীনা জাতির উন্নয়নের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যে দায়িত্ব তার প্রতি ন্যস্ত করা হয়েছে তা তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের বার্ষিক সমাপনী সভায় তিনি বলেন, তার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে চীনের অর্থনেতিক উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া। আর এটাই হবে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মূল কাজ। তিনি বলেন, অর্থনীতিতে যে অসাম্য রয়েছে তা দূর করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সামরিক শক্তির বিষয়ে তিনি অনেকটা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমাদের এ ক্ষেত্রে আরো সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। কেননা জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এর বিকল্প কিছু নেই। আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আমাদের এগুতে হবে। গত বৃহস্পতিবার নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হবার পর এখন শি জিনপিং বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের মধ্যে একজন। খুব স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের নানা মিডিয়া তার খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করছে। কেননা চীন এখন বিশ্বে একটি উন্নত দেশ হিসাবে পরিচিত। সে কারণেই এখানকার শাসন ব্যবস্থার কোন পরিবর্তনে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ৩ হাজার প্রতিনিধি তাকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচনে ভোটদান করেন। সে হিসাবে ১৩৫ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশটিতে একজন প্রতিনিধি সাড়ে ৪ লাখ লোকের প্রতিনিধিত্ব করেন। আর তাদের থেকে নির্বাচিত ওই ৩ হাজার প্রতিনিধির ভোটে নির্বাচিত হন তিনি। ক্ষমতার এ আসনে তার পদার্পণ শুধু এখন থেকেই নয় । গত নভেম্বরে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ও সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ নির্বাচিত হন। তাই জিনপিংকে প্রেসিডেন্ট হতে আনুষ্ঠানিকভাবে তেমন কোন প্রচার প্রচারণা চালাতে হয়নি। তার প্রাকযোগ্যতাই এ পদে তাকে নিয়ে গেছে। তার স্বপ্ন একটাই- তিনি চীনকে একটা শক্তিশালী, উন্নত ও গর্বিত দেশ হিসাবে দেখতে চান। এ বিষয়টিকে সামনে রেখে তিনি সামপ্রতিক সময়ে সেদেশে বিভিন্ন স্থান সফর করেন। এ সময়ে তিনি ভবিষ্যত্ চীনকে কোথায় দেখতে চান এ সম্পর্কে নানা কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশটির দক্ষিণে গুয়াংডং প্রদেশের বৃহত্তম শেনজেন শহরকে ‘বিশেষ অথনৈতিক অঞ্চল’ হিসাবে গড়ে তোলা হবে, যা চীনের অথনৈতিক বিপ্লবের ক্ষেত্রে এক বিরাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একে চীনের একটা অর্থনৈতিক সংস্কারও বলা যেতে পারে। তিনি বলেন, আমরা চীনা নেতা ডেং জিয়াওপিংয়ের মুক্ত চীনা অর্থনীতির বাস্তবায়ন এখানে দেখতে চাই। বেইজিংয়ের কাছে কয়েকটি প্রত্যন্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের বর্তমান অবস্থা জানতে চান। সবকিছু শুনে তিনি কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নের আশ্বাস দেন। সবশেষে তিনি কয়েকটি সামরিক ইউনিট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, আমরা ভবিষ্যত্ চীনকে একটা শক্তিশালী সামরিক শক্তি হিসাবে দেখতে চাই। তবে আশার কথা যত থাকুক না কেন জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে সমালোচনাও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে তার অনেক আত্মীয়-স্বজন সামপ্রতিক সময়ে নিজেদের নব্য ধনকুবেরের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। ব্লুমবার্গ নিউজ এজেন্সির এক তদন্তে বলা হয়েছে, জিংপিংয়ের পরিবারের শত শত কোটি ডলারের সম্পদের পাহাড় রয়েছে। অস্বচ্ছতা, দুর্নীতি থেকেও যে তারা মুক্ত নন এটা তারই প্রমাণ। তবে প্রদীপের নিচে অন্ধকার থাকলেও এর আলো যে সব আঁধারকে মুছে দিতে পারে তা-ও কারো অজানা নয়। সেদেশের প্রখ্যাত লেখক গাও ইউ বলেছেন, জিনপিং জানেন, তাদের দলের ভুল কোথায়। সবকিছুকে যদি তিনি সামলাতে পারেন তাহলে তিনি চীনকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারবেন।