চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না
মাগুরার সহস্রাধিক শিক্ষক
শ্রীপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৩, ২১:০৮
জাতীয়করণ ঘোষণা দেয়া সত্ত্বেও প্রায়ই চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না মাগুরার তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক রেজিষ্টার্ড ও কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, গত ৯ জানুয়ারি রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে শিক্ষকদের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। ঘোষণার পর থেকে গত ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও চলতি মার্চ মাসসহ চার মাস ধরে শিক্ষকরা কোন বেতন পাচ্ছেন না। আপাতত পূর্বের মূল বেতন পেলেও শিক্ষকরা কোনমতে খেয়ে-পড়ে বেেঁচ থাকতে পারতেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সাল থেকে সারা দেশের ২৬ হাজারের ঊর্ধ্বে রেজিষ্টার্ড ও কমিউনিটি বিদ্যালয়ের লক্ষাধিক শিক্ষক জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন ও সংগ্রাম করে আসছিলেন। দীর্ঘ ২১ বছর সংগ্রামের পর ২০১৩ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। ঘোষণার পরপরই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি হয় যে, জাতীয়করণ ঘোষণাকৃত বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত যোগ্যতাবিহীন শিক্ষকদের পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে এবং বিদ্যালয়গুলোকে তিন পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের পর অধিগ্রহণ করে সরকারি নিয়মে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেয়া শুরু হবে। এ কাজ শুরু হতে দু’তিন মাস সময় লাগবে। তবে সরকারিকরণের সিদ্ধান্ত ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তাছাড়া শিক্ষকরা বকেয়া হিসেবে এই টাকা অবশ্যই পেয়ে যাবেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক মাসের বকেয়া বেতন একবারে পাওয়ার আশায় অনেক শিক্ষক আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের নিকট থেকে ধার-দেনা করে সংসার চালাচ্ছেন।
জানা গেছে, পরিপত্র অনুযায়ী শিক্ষকদের তালিকা বানিয়ে ৩০ দিনের জেলা কমিটির কাছে পাঠানোর নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনমাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও উপজেলা কমিটি এখন পর্যন্ত সকল কাজকর্ম শেষ করে উঠতে পারেননি। যেকারণে সরকারিকরণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অরুণ চন্দ্র ঢালী জানান, উপজেলা পর্যায়ের মনিটরিংয়ের কাজ প্রায়ই শেষ প্রান্তে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই জেলা কমিটির কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন রিপোর্ট পাঠানো হবে। বাছাইয়ের কাজ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বেতন-ভাতা পেতে শিক্ষকদের একটু সময় লাগবে।