বিরোধী নেত্রীর মন্তব্যে আমরা স্তম্ভিত, ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত :প্রজন্ম ৭১

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও গণজাগরণ মঞ্চ সম্পর্কে বিরোধী নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সন্তানদের সংগঠন ‘প্রজন্ম ৭১’। তারা বলেছে, খালেদা জিয়ার এইসব মনগড়া, অশ্রদ্ধাপূর্ণ উক্তি ও মন্তব্যে আমরা স্তম্ভিত, মর্মাহত, ক্ষুব্ধ ও দারুণভাবে ব্যথিত। এটা শহীদদের প্রতি চরম অবমাননাকর এবং দেশের প্রতি অবজ্ঞাস্বরূপ। তিনি শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চকে ‘মঞ্চ-টঞ্চ’ বলে বিদ্রূপ করেছেন, তারুণ্যের শক্তির প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়ে আবার নিজেই জনতার মঞ্চ করতে চেয়েছেন। তার এ ধরনের দ্বিচারিতারও আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সন্মেলনে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনের পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন শহীদদের সন্তানরা। সাংবাদিক সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক শাহীন রেজানূর। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে নাদিম কাদির, আসিফ মুনির, শিবলী মোহাম্মদ, শমি কায়সার, নুজহাত চৌধুরী শম্পা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শাহীন রেজানূর বলেন, আমরা শহীদদের সন্তানেরা সুদীর্ঘ ৪২ বছর ধরে আমাদের প্রিয় স্বজনদের হত্যার বিচারের প্রত্যাশায় রয়েছি। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে, এর কার্যক্রমকে বন্ধ করে দিতে দেশি-বিদেশি অপশক্তি নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই বিচারকে কেন্দ্র করে ইসলাম রক্ষার নামে একশ্রেণির রাজনৈতিক দলের প্রশ্রয়ে কিছু সংখ্যক মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্র ও দলীয় নেতাকর্মী জনগণের বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের জানামাল ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে। আমরা এইসব ঘৃণ্য কার্যক্রমে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা এদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশের সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। প্রজন্ম ’৭১ এর সভাপতি বলেন, আমরা বারবার বলেছি কোন প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধ স্পৃহা থেকে নয়, সভ্যতার দাবি মেটাতে ও লাখো শহীদদের রক্তেস্নাত বাংলাদেশকে দায়মুক্ত করবার জন্য এই ঘৃণ্য অপরাধীদের বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির কোন বিকল্প নাই। সে কারণে দেশের শহীদ পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে আমরা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরছি। দাবিগুলো হলো: যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজা দিতে হবে। জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। জঙ্গিদের অর্থায়নের উত্স বন্ধ করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সাক্ষীদের নিরাপত্তা দিতে হবে এবং সরকার পরিবর্তন হলেও যেন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধকারীদের বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকে, সংবিধানে সেই রক্ষাকবচের ব্যবস্থা করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, সম্প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড হ্রাসের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। একে আমরা অনভিপ্রেত ও আমাদের নিজস্ব বিচার কার্যক্রমের উপর হস্তক্ষেপ বলে মনে করছি। এছাড়া ইকনমিস্ট,অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন বিদেশি প্রচার মাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা ট্রাইব্যুনালবিরোধী বিভিন্ন মন্তব্য দিচ্ছে ও লেখালেখি করছে। পাশাপাশি দেশীয় কয়েকটি দৈনিক ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াও যুদ্ধাপরাধ বিচারকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছে। তাছাড়া প্রতিরাতেই টেলিভিশনে টকশো’র নামে কিছু চেনামুখ ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করছেন। এসব প্রয়াস শুধু নিন্দনীয়ই নয়, ক্ষমাহীন অপরাধ বলে আমরা মনে করি। আমরা এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সময়ের দাবি পূরণে সাংবাদিক সমাজসহ দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ‘জাতির বিবেক’-এর ভূমিকা পালন করবেন এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একাত্তরের নরঘাতকদের বিচার সুসম্পন্ন হবে।