আবুল মনসুর আহমদের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৩, ২১:৫০
উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। আজ তিনি আধুনিক ও প্রগতিশীল সাংবাদিকতার এক অগ্রপথিক। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্রূপাত্মক রচনার রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন একাধারে একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ ও সাংবাদিক। তিনি কৃষক ও নবযুগ পত্রিকায় কাজ করেছেন এবং ১৯৪৬-এ অবিভক্ত বাংলার কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘ইত্তেহাদ’র সম্পাদক ছিলেন।
সফল রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদ শের-এ-বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট সরকারে প্রাদেশিকের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন এবং ১৯৫৭ সালে প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আওয়ামী লীগ সরকারে ছিলেন কেন্দ্রিয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। পূর্ববাংলার স্বার্থের স্বপক্ষে শক্ত অবস্থান ও নানাবিধ উদ্যোগের জন্য, বিশেষ করে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে তার সুনাম রয়েছে।
তিনি চল্লিশ, পঞ্চাশ ও ষাটের দশক জুড়ে সবসময় ধর্মনিরপেক্ষতার স্বপক্ষে যে প্রচারণা চালিয়েছেন তার তুলনা হয় না। অখণ্ড পাকিস্তানের প্রথম দিকে বিরোধী দলীয় আন্দোলনে তার অবদান ছিল অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রথম দিকের একজন নেতা। চল্লিশের দশকের প্রথম থেকেই তিনি ভাষা বিষয়ে লিখে আসছিলেন এবং ইত্তেহাদের সম্পাদক হিসাবে ভাষা আন্দোলনে তিনি অবদান রাখেন। রাজনৈতিক কারণে আবুল মনসুর আহমদকে পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে ও ষাটের দশকের প্রথম দিকে জেনারেল আইযুব খানের সামরিক শাসনামলে বেশ কয়েকবার কারাবরণ করতে হয়।
সম্প্রতি বাংলা একাডেমী আবুল মনসুর আহমদ রচনাসমগ্র তিন খণ্ড প্রকাশ করেছে। তার রচনা সমগ্রের আরও তিন খণ্ড শ্রীঘ্রই প্রকাশিত হবে।
তার রচনা সম্ভারের মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত বিদ্রূপাত্মক গ্রন্থাবলী—আয়না, আসমানী পর্দা, গালিভারের সফরনামা ও ফুড কনফারেন্স। তার আত্মজীবনীমূলক দু’টি গ্রন্থ হচ্ছে—আত্মকথা ও আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর।