মনোহরগঞ্জে নিহত শিশুদের বাড়িতে শোকের মাতম

মনোহরগঞ্জে ট্রাক চাপায় নিহত শিশুদের বহন করা স্কুল ভ্যানটির দরজায় লেখা ছিল ‘আম্মু টা টা আসি’। কে জানত এটাই শেষবারের মত বাবা-মার কাছ থেকে বিদায়। কে জানত ভ্যানে করে নয়, স্কুল থেকে ফিরতে হবে ‘শবগাড়ি’তে করে। গত শনিবারের সড়ক দুর্ঘটনা আদরের সন্তানের সঙ্গে নিয়ে গেলো মা-বাবার ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন। নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। অভিভাবক ও আত্মীয়-স্বজনের মতো শোকে স্তব্ধ মনোহরগঞ্জের হাতিমারা গ্রাম। গত শনিবার রাতে হাতিমারা ঈদগাহ মাঠে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জানাজা শেষে নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। হাতিমারা গ্রামের আবু তাহের ও হাসিনা দম্পতির বাড়িতে গিয়ে জানা যায় তাদের এক ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে নিহাদ ও তমা দু’জনই ওই স্কুলে পড়ত। হাসিবুল হাসান নিহাদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। ফাহমিদা তাহের তমাকে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতাল থেকে আশংকাজনক অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকরুদ্ধ তাদের মা-বাবা। নিহত মিথুনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা আহাজারি করছেন ছেলের জন্য। নার্সারী পড়ুয়া আদরের শোভাকে হারিয়ে চোখের জলে বুক ভাসাচ্ছেন আর স্কুল পানে তাকিয়ে আছেন মা সেলিনা বেগম। শোকে নির্বাক নাথেরপেটুয়া মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলামও। তিনি বলেন, বাচ্চাদের গাড়িতে তুলে দিয়ে আমি জোহরের নামাজ পড়তে যাই, নামাজ শেষ না হতেই ফোন বেজে ওঠে। শুনি দুর্ঘটনার খবর। স্থানীয় সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল আহসান, কুমিল্লার পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহেদুর রহমান, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল আনোয়ারসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। গতকাল রবিবার সকালে উপজেলা চেয়ারম্যান ইলিয়াস পাটোয়ারী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা কুসুম নিহতদের বাড়িতে গিয়ে অভিভাকদের সান্ব্তনা দেন ও নিহত শিশুদের কবর জিয়ারত করেন। মনোহরগঞ্জ ও লাকসাম উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন তিনদিনের শোক ঘোষণা করেছে।