মেঘনা ও গোমতী সেতুর সংস্কার কাজ শেষ পর্যায়ে
এজাজ হোসেন, দাউদকান্দি থেকে ফিরে
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৩, ২১:৫৪
মেঘনা ও গোমতী সেতুর উপরিভাগের সংস্কার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২১ মার্চ সেতু দুইটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। তবে বালির বস্তা ও জিও ব্যাগ দিয়ে মেঘনা সেতুর তলদেশের গভীর গর্ত পূরণের কাজ চলবে আগামী মে পর্যন্ত। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই সংস্কার কাজ চলছে।
শনিবার বিকালে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) আয়োজনে সাংবাদিকদের একটি দল সেতুর চলমান সংস্কার কাজ দেখার জন্য গেলে প্রকল্প পরিচালক কর্নেল মো. সাজ্জাদ হোসেন এই কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নকশা অনুযায়ী সেতু দুইটির উপর দিয়ে প্রতিদিন ১১ হাজার যান চলাচলের কথা ছিল; কিন্তু এখন দৈনিক গড়ে ২০ হাজারের বেশি যান চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ভারি যান চলাচলের কারণে সেতু দুইটির এক্সপানসন জয়েন্ট ও হিঞ্জ বিয়ারিংগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে কোনো ভারি যান পার হওয়ার সময় সেতুর কংক্রিটের বিভিন্ন অংশ পরস্পরের সঙ্গে বাড়ি খাচ্ছিল। এছাড়া অতিরিক্ত স্রোত ও বড় বড় জাহাজ নিচ দিয়ে চলাচলের কারণে মেঘনা সেতুর ৭, ৮, ৯ নম্বর পিলার এবং ৬ ও ১০ নম্বর পিলারের কিছু অংশের পাশ থেকে মাটি সরে যায়। উল্লেখিত পিলারের উজান ও ভাটিতে ৮৫০ মিটার এলাকাজুড়ে নদীর তলদেশে তৈরি হয় গভীর পুকুরের মতো গর্ত। পিলারগুলোর কাছে নদীর সর্বোচ্চ গভীরতা দাঁড়ায় ৯০ ফুটের মতো। উপরিভাগের এক্সপানসন জয়েন্ট ও হিঞ্জ বিয়ারিং এবং নিচের দিকে পিলারের মাটি সরে যাওয়ার কারণে কারিগরি ভাষায় ‘সোয়ে এফেক্ট’ তৈরি হয়। অর্থাত্ যান চলাচলের সময় সেতুটি অস্বাভাবিকভাবে দুলতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সংস্কার কাজে হাত দেয়া হয়। সংস্কার কাজের অংশ হিসেবে তিন দফায় দুইটি সেতুতে ৯৬টি হিঞ্জ বিয়ারিং ও ৩০টি এক্সপানসন জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। ২১ মার্চ এই কাজ শেষ হলে সেতু দুইটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। পুরোদমে যান চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকে পরবর্তী এক মাস দুইটি সেতুকেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
অন্যদিকে মেঘনা সেতুর তলদেশে সৃষ্ট খাত মেরামতে ইতিমধ্যে ৮০ কেজির ৩৬ লাখ বালির বস্তা (পাটের বস্তা) ফেলা হয়েছে। আরো ৩০ লাখ বালির বস্তা ফেলা হবে। পাটের বস্তা পচে গেলে এই বালি যাতে সরে না যায় সে জন্য সর্বশেষ স্তরে ২৩ লাখ জিওটেক্স ভর্তি বালির বস্তা ফেলে নদীর ক্ষতিগ্রস্ত তলদেশ ঢেকে দেয়া হবে।
কর্নেল সাজ্জাদ জানান, প্রথমে পরিকল্পনা ছিল কংক্রিট ব্লক দিয়ে নদীর তলদেশ মেরামত করা হবে; কিন্তু মেঘনা সেতুর পাশে দ্বিতীয় মেঘনা সেতুর কাজ শুরু হবে। এই কাজটি করবে জাপান। তাদের তরফে বলা হয়, কংক্রিট ব্লক ফেলা হলে পরবর্তী সেতুর কাজ করতে সমস্যা হবে। তারা নমনীয় বস্তু দিয়ে তলদেশ মেরামতের পরামর্শ দেয়। তাদের পরামর্শ মেনেই কাজটি করা হচ্ছে।
কর্েনল সাজাদ্দ উল্লেখ করেন, প্রায় ৪৩৬ কোটি টাকার এই সংস্কার প্রকল্পটির জন্য সরকার ইতিমধ্যে ১১৫ কোটি টাকা দিয়েছে। কয়েকটি দেশি ও বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সেনাবাহিনীর সঙ্গে এ কাজ করছে। সব কাজ শেষ হলে আগামী ১০ বছর সেতু দুইটি ঝুঁকিমুক্ত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, সেতু দুইটি মেরামতের জন্য বর্তমানে এর উপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেতু দুইটি ব্যবহারকারী যানবাহন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছে।