প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল পিরোজপুর ও পটুয়াখালী যাবেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল মঙ্গলবার দক্ষিণাঞ্চলের পিরোজপুর জেলা শহর এবং পটুয়াখালীর দশমিনা, দুমকি ও সদর উপজেলা সফরে আসছেন। এদিন তিনি বিকেলে পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় ভাষণ দিবেন। তিনি সকালে পটুয়াখালীর দশমিনা বীজবর্ধন খামার উদ্বোধন, দুমকির লেবুখালী সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং দুপুরে সদরের লাউকাঠি সেতু সংলগ্ন কৃষি বিমান অবতরণ কেন্দ্রে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেবেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা সদরে তার মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কলেজের একাডেমিক ভবন ও ছাত্রীনিবাস, জিয়ানগর উপজেলায় বলেশ্বর নদের উপর নির্মিত শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি সেতু, ইন্দুরকানী থানা ভবন, জেলা রেজিস্ট্রি অফিস ভবন, স্বরূপকাঠী (নেছারাবাদ) ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ভবন, স্বরূপকাঠী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবন, জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নির্মিত ৬টি প্রাইমারি স্কুল-কাম-সাইক্লোন শেল্টার উদ্বোধন করবেন। এছাড়া পিরোজপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ভবন, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের হোস্টেল, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাডেমিক ভবন-কাম-পরীক্ষা হল ও ক্যাটেল গবেষণা কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পরে তিনি জনসভায় ভাষণ দেবেন। এদিকে পিরোজপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন ও জনসভা সফল করে তুলতে জেলা প্রশাসনসহ আওয়ামী লীগ ব্যাপক কর্মতত্পরতা শুরু করেছে। পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লোক সমাগমের জন্য মাঠের পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এক যুগেরও বেশি সময়ের প্রচেষ্টা শেষে জিয়ানগরে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বলেশ্বর নদের উপর দ্বিতীয় সেতু। নির্মাণ শুরুর দীর্ঘ নয় বছর পরে শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি সেতু নামকরণ করে সেতুটি উদ্বোধন করা হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১৫ মে সেতু নির্মাণের ওয়ার্ক অর্ডার পেয়ে ৩১ আগস্ট নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বলেশ্বর নদের উপর টগড়া ও চাড়াখালী প্রান্তে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৩৮৭.৩১ মিটার, প্রস্থ ১০ মিটার, স্প্যান ৮টি। প্রতিটি স্প্যানের দৈঘ্য ৪৮.৫২ মিটার। টগড়া প্রান্তে এপ্রোচ সড়ক প্রায় ৬৬৩ মিটার এবং চাড়াখালী প্রান্তে ১৯৮৭ মিটার। শর্তানুযায়ী ২০০৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারিতে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতি, জমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, কাজে ধীরগতি ও অর্থাভাবে সেতুটির কাজ বারবার পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে প্রায় ৩৫ কোটি টাকায় সেতু নির্মাণের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়। ১৯৯৮ সালে তত্কালীন যোগাযোগমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নির্দেশে এ সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। ২০০৩ সালে নবসৃষ্ট জিয়ানগর উপজেলা উদ্বোধনকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালে তত্কালীন যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা জিয়ানগর সেতু নামে সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং চারদলীয় জোট সরকার আমলে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরে সেতুটির নাম পরিবর্তন করে ইন্দুরকানী সেতু নামকরণ করা হয়। সমপ্রতি সেতুটির নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি সেতু করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, সেতু ও সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। সেতুটি দিয়ে বরিশাল থেকে পিরোজপুর হয়ে জিয়ানগর, বালিপাড়া, সন্ন্যাসী, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা ও মংলা বন্দরের সাথে সড়ক যোগাযোগ সুগম হবে। ফলে শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও সুন্দরবন সংলগ্ন বগী এবং তাফালবাড়ী থেকে বঙ্গোপসাগরের আহরিত মাছ এবং হোগলাবুনিয়া, চণ্ডিপুর, ঘোষেরহাট ও বালিপাড়া থেকে বিভিন্ন শাক-সবজি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে পাঠানো সম্ভব হবে। সেতুটি নির্মাণের ফলে সুন্দরবন পর্যটন ক্ষেত্রেও নতুন দ্বারের উন্মোচন হলো।