মানবতাবিরোধী সব অপরাধের নির্দেশদাতা গোলাম আযম

প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ, জেনেভা কনভেনশনবিরোধী সব অপরাধের লাইটহাউস ছিলেন গোলাম আযম। তিনি মধ্যমণি হয়ে তার চারপাশের সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় যতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, সবই হয়েছে তার নির্দেশনায়। তিনি বলেন, পুরো একাত্তরে তার যেসব চিঠি আমরা দেখতে পাই, সেসব চিঠিতে দেখা যায়, বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। নীতি নির্ধারণ করেছেন, অপারেশন নিয়ন্ত্রণ করেছেন, অর্থনৈতিক ক্ষমতাও তার হাতেই ছিল। কে রাজাকার হবে, কাকে রাজাকার হিসেবে রিক্রুট করা হবে, কাকে রাজাকারের আইডি দেয়া হবে-সবই হতো তার নির্দেশে। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সোমবার রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে ব্যারিস্টার তুরিন একথা বলেন। ব্যারিস্টার তুরিন বলেন, গোলাম আযম তখন জামায়াতের প্রধান ছিলেন। আর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটি গঠিত হয়েছিল জামায়াত সদস্যদের দিয়েই। তিনি বলেন, জামায়াতের তখনকার ছাত্র সংগঠন ছাত্রসংঘের হাতে যখন অস্ত্র তুলে দেয়া হয়, তখন তারা একটি আধা-সামরিক বাহিনী (আলবদর) হিসেবে কাজ করে। গোলাম আযমের সেই সময়ের ভূমিকা আজ পুরো জাতির কাছে পরিষ্কার। তিনি রেডিওতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন, রাওয়ালপিণ্ডি, করাচিসহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ‘অখণ্ড পাকিস্তান’ রক্ষার নামে সমাবেশ করেছেন। তাদের বিভিন্ন সংগঠন চালানোর জন্য যেসব টাকা আসতো, সেসব টাকার রশিদ আসতো গোলাম আযমের নামে। ব্যারিস্টার তুরিন বলেন, সমুদ্রে যখন একটি লাইটহাউস থাকে, তখন তার আলোতে পথহারা নাবিকরা তাদের পথ খুঁজে পান। কিন্তু গোলাম আযম যে আলো বিচ্ছুরণ করেছেন, তা থেকে বাংলাদেশে নতুন কোনো ভোর আসেনি। লাইটহাউস শব্দটা আমরা এতোদিন পজেটিভ অর্থে ব্যবহার করেছি, তার ক্ষেত্রে নেগেটিভ অর্থেও ব্যবহার করা যায়। এদিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির না হওয়ায় গোলাম আযমের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান এইচ সিদ্দিকীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ব্যারিস্টার ইমরানের গতকাল গোলাম আযমের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির না হওয়ায় তাকে এ জরিমানা করে ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত ১৪ মার্চ গোলাম আযমের অপর আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলামও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালে অনুপস্থিত থাকলে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আসামি পক্ষের আইনজীবীদের এই ৬ হাজার টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।