বাংলাদেশি অনেক মেয়ে
এখন কাশ্মীরের গৃহবধূ
বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০১৩, ২১:০১
ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি মেয়ে এখন কাশ্মীরে গৃহবধূ হয়ে ঘর-সংসার করছেন। ১৬ বছর বয়সে পাচার হয়ে ৯ বছর কাশ্মিরী স্বামীর সাথে ঘর-সংসার করার পর সমপ্রতি দুই মেয়েসহ দেশে ফিরেছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের রুমা বেগম।
রুমার বাবা আব্দুল মান্নান জানান, সীমান্তবর্তী একাশীপাড়া গ্রামের আব্দুল মোমিন নামে তাদের এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় ২০০৪ সালে রুমাকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যায়। এরপর মোমিনের স্ত্রী রুমাকে তার বোন মহেশপুরের গোকুলনগরের আয়েশার হাতে তুলে দেয়। নারী পাচার চক্রের সদস্য আয়েশা রুমাকে ভারতে নিয়ে যায়। রুমা জানান, আয়েশা তাকে কাশ্মীরে তার মেয়ে রোজের বাড়িতে উঠায়। সেখানে ২ মাস থাকার পর আব্দুর রশিদ নামে এক ব্যক্তির কাছে তাকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। পরে সিমেন্ট কারখানার শ্রমিক আব্দুর রশিদ তাকে বিয়ে করেন। স্বামীর ঘরে তিনি সুখেই ছিলেন। কিন্তু ৩ মাস আগে স্বামী মারা যান। তাদের ঘরে ফুরকন (৮) ও মুশকন (৪) নামে দুইটি কন্যা সন্তান রয়েছে । রুমা আরো জানান, কাশ্মীরে মেয়ের সংখ্যা কম এবং বিয়ে অনেক ব্যয়বহুল। এজন্য তারা বাংলাদেশ বা অন্য কোন দেশ থেকে পাচার হওয়া মেয়েকে কম দামে কিনে পাত্রী হিসাবে বেছে নেয়। দেশে ফিরে রুমা বাংলায় কথা বললেও মেয়েরা হিন্দিতে কথা বলছে। নানাবাড়ি এসে তারা সমবয়সীদের সাথে খেলা করে দিন কাটাচ্ছে। রুমার বাবা মান্নান গত জানুয়ারি মাসে মোমিন, সালেহা ও আয়েশার নামে আদালতে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করায় বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শামসুজ্জোহা জানান, আয়েশা গ্রেফতারের পর পুলিশকে জানিয়েছে, কাশ্মীরে মেয়ের সংখ্যা কম, তাই বাংলাদেশ থেকে পাচার করা মেয়ে কাশ্মীরে নিয়ে গোপনে রাখা হয়। এরপর ক্রেতা যোগাড় হলে বিক্রি করা হয়। কম দামে কনে কিনে ঘর- সংসার করছেন কাশ্মিরীরা।