মেলান্দহে তিন ছাত্রের বিরুদ্ধে
জননিরাপত্তা আইনে মামলা
মেলান্দহ (জামালপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০১৩, ২১:০৮
মেলান্দহে তিন নিরপরাধ স্কুল ছাত্রকে জননিরাপত্তা আইনে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ অবস্থায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যত্ জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, গত ১২ মার্চ বিএনপি জোটের হরতাল চলাকালে উপজেলার আদ্রা কুঠেরবাজার এলাকায় হরতাল সমর্থিত কিছু লোক রাস্তায় গাছ ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করে। পুলিশের ধাওয়ায় পিকেটাররা ছত্রভঙ্গ হয়। ওদিকে আদ্রা কুঠেরবাজার হতে কমপক্ষে অর্ধ কি.মি. দূরে চংদারিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের নির্মাণাধীন বাড়ির আঙ্গিনায় কাটা বৃহত্ একটি নারকেল গাছ সরানোর জন্য একই গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে হাজরাবাড়ি হাইস্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র সুমন ও হানিফের ছেলে বাবুসহ কতিপয় লোক চেষ্টা করছিল। রফিকুলের বাড়িতে লোক সমাগম ও গাছ টানা-হেঁচড়া করতে দেখে পুলিশ তাদের পিকেটার হিসেবে সন্দেহ করে এবং এক পর্যায়ে পুলিশ রফিকুলের বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় পুলিশ সুমন ও বাবুকে কিল ঘুষি লাথি দিয়ে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। এলাকাবাসী নিরপরাধ দুই ছাত্রকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানালেও পুলিশ কোন তোয়াক্কা করেনি।
অপরদিকে নিরপরাধ সুমনকে গ্রেফতারের খবরে মা জোসনা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরই এক পর্যায়ে সুমনদের বাড়িতে আগুন ধরে যায় এবং কাকতালীয়ভাবে হাজির হয় টহলরত পুলিশ। তাত্ক্ষণিকভাবে পুলিশের উপস্থিতি দেখে মানুষের মাঝে প্রচার হয় যে, পুলিশ সুমনের বাবা আয়ুবকেও গ্রেফতার করতে এসেছে। তাকে না পেয়ে তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। এতে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের মাঝে আরো ভীতির সঞ্চার হয় এবং আতংকিত লোকজন আগুন নেভাতে আসার পরিবর্তে পালাতে থাকে। ফলে সুমন ও বাবুদের ঘরবাড়ি ছাড়াও আরো কয়েক প্রতিবেশীর ঘরবাড়ি নগদ টাকা ও মালামালসহ ভস্মীভূত হয়। একই সময় ওই এলাকার আরেক ছাত্র ওবায়দুজ্জামান রবিনকে তার নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ সন্দেহমূলক ধরে নিয়ে যায়।