চৌদ্দগ্রামে নবজাতক চুরির
একদিন পর উদ্ধার
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০১৩, ২২:১৩
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়া ও নার্স এক নবজাতককে চুরির একদিন পর গতকাল সোমবার নবজাতকটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স ও আয়া।
জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের পেঁচামুড়ি গ্রামের মোমিন মিয়ার স্ত্রী সেলিনা বেগমের প্রসব বেদনা শুরু হলে গত রবিবার ভোরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সকালে সেলিনা একটি কন্যা সন্তান প্রসব করে।
সেলিনা বেগম ও তার মা সালেহা বেগম গতকাল বিকালে জানান, সন্তান প্রসবের পর নার্স হাছিনা ও আয়া খুরশিদা সন্তান প্রসবের খরচ বাবদ তাদের কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করে। ওই দুইজনকে চারশ’ টাকা দেয়া হয়। বাকী টাকার জন্য আয়া ও নার্স চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে নার্স ও আয়া তাদেরকে নবজাতক বিক্রির প্রস্তাব দেয়। এতে তারা রাজি হয়নি।
সালেহা বেগম আরো জানান, রবিবার সকাল ১০টার দিকে আয়া খুরশিদা শিশুটিকে দেখার নামে হাসপাতালের বিছানা থেকে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ ফিরে না আসায় তারা চিত্কার শুরু করলে হাসপাতালের লোকজনসহ রোগীরা জড়ো হয়। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আয়া খুরশিদার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে চাপ প্রয়োগ করলে গতকাল দুপুরে জেলার সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকায় শিশুটিকে ফেলে যায়। পরে নবজাতকটিকে হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সযোগে চৌদ্দগ্রামে নিয়ে আসা হয় এবং তার মায়ের কাছে ফেরত দেয়া হয়।
সেলিনা বেগম জানান, শিশুটি বুঝিয়ে দেয়ার নামে হাসপাতালের আরএমও ডা. মুজিবুর রহমান তার থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। এ বিষয়ে ডা. মুজিবুর রহমান জানান, হাসপাতালের হেড ক্লার্ককে শিশুটি বুঝিয়ে দেয়ার জন্য বলা হলে সে বুঝিয়ে দেয়। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত নার্স ও আয়া পলাতক রয়েছে।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলুর রহমান মজুমদার জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রসূতি থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়ার বিষয়টি তার জানা নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।