দক্ষিণাঞ্চলে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুত্ পাওয়া যাচ্ছে

গরম শুরু হতে না হতেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র বিদ্যুত্ সংকট দেখা দিয়েছে। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এসব এলাকার মানুষকে। গত এক সপ্তাহ ধরে চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হচ্ছে । বিদ্যুত্ বিভাগ জানায়, বিদ্যুতের চাহিদা এখন ৮০ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট। আর কয়েক দিন পর গরম বাড়তে থাকলে চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে ১শ’ মেগাওয়াট। এখন পিকআওয়ারে পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্। আর অফ পিকআওয়ারে পাওয়া যায় ৩০ থেকে ৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুত্। যদিও গত রবিবার কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পর্যাপ্ত বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হয়েছিলো বরিশাল ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনে। ওই রাতে সর্বোচ্চ ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হয়। গতকাল সোমবার এ ধারাবাহিকতায় ৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুত্ পেয়েছে বিতরণ ও বন্টন বিভাগ। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের সাথে সাথেই আবার সরবরাহ পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশংকা এখানকার বিদ্যুত্ বিভাগের। ৩৩ কেভি গ্রিড সঞ্চালন লাইনের দায়িত্বরতরা জানান, গরম পড়তে শুরু করায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। দিনে ৩০ মেগাওয়াট ও রাতে গড়ে ৪০/৪৫ মেগাওয়াট বিদুত্ সরবরাহ করা হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড লাইনে বিদ্যুত্ বণ্টন নিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিদ্যুতের মোট উত্পাদনের ন্যায্য হিস্যা অনুযায়ী পশ্চিম জোনে বরাবরই সরবরাহ কম করা হয়। পশ্চিম জোনে কেন্দ ীয় লোড ডেসপাস সেন্টার (সিএলডিসি) থেকে নানা মারপ্যাঁচে বিদ্যুত্ কম দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খুলনায় রয়েছে এলডিসি’র আরেকটি অফিস। সেখান থেকে বরিশাল অঞ্চলে সরবরাহ কমিয়ে কেন্দে র মতই নিজের এলাকায় বেশী বিদ্যুত্ রাখার অভিযোগ এখানকার বিদ্যুত্ বিভাগে কর্মরত ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইন ও ওজোপাডিকো’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। বিদ্যুত্ বিতরণ ও সরবরাহে সবচেয়ে বঞ্চিত হচ্ছে দক্ষিণের ৬ জেলা। নানান সংকটের মাঝে যেটুকু বিদ্যুত্ সরবরাহ হয় তা আবার বিভিন্ন এলাকার সংসদ সদস্যরা কেন্দে র অনুমতি নিয়ে নিজস্ব এলাকায় নির্ধারিত হারে সরবরাহে বাধ্য করেন। ফলে চাহিদামাফিক জরুরি প্রয়োজনে যাদের বিদ্যুত্ দরকার তারা ভোগেন চরম ভোগান্তিতে। শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশনসহ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মেশিন সচল রাখতে বিদ্যুত্ সংকটে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।