শহীদ মিনার, কালি মন্দির ও গণজাগরণ মঞ্চে আগুন

বগুড়া ও ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে কালি মন্দিরে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করেছে। এছাড়াও সুনামগঞ্জের ছাতকের একটি স্কুলের শহীদ মিনারে গতকাল সোমবার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জে গতকাল গণজাগরণ মঞ্চে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে। এসব ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি। বগুড়া প্রতিনিধি, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা, ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা ও কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধির পাঠানো খবর। বগুড়া প্রতিনিধি জানান, গাবতলী উপজেলার কাগইলে গতকাল ভোরে কালি মন্দিরে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে। এতে মন্দিরের দরজা ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় ঐ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কাগইল বাজারে জনৈক প্রাণবন্ধু জানান, মন্দিরে আগুন জ্বলতে দেখে বাজারের দোকানদাররা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কাগইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফি আহম্মেদ স্বপন জানান, দ্রুত আগুন নেভানোর কারণে প্রতিমার কোন ক্ষতি হয়নি। পুলিশ জানায়, ঘটনাটি কে বা কারা ঘটিয়েছে তা এলাকাবাসী এখনো জানাতে পারেনি। গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার পাগলা থানার টাংগাব ইউনিয়নের দুবাশিয়া গ্রামের একটি কালি মন্দিরে গত রবিবার রাতে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মন্দিরের চালের পিছনের অংশ পুড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা মন্দিরের উত্তর-পূর্ব কোণের চালে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী জলধর বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় গ্রামের হিন্দু সমপ্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি ক্ষোভও বিরাজ করছে। পুলিশ জানায়, এখনো কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার পীরপুর শুকুরুন্নেছা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে গতকাল সোমবার ভোরে দুর্বৃত্তরা খড়-কুটা দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে শহীদ মিনারের রঙ পুড়ে কালচে হয়ে গেছে। কে বা কারা শহীদ মিনার পুুড়িয়েছে তা জানা যায়নি। তবে এলাকায় এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানায়, কে বা কারা শহীদ মিনার পুড়েছে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের সুলতানপুর-পাগলাকান্দা গ্রামে আরএমবি ইটখলা সংলগ্ন গণজাগরণ মঞ্চে গতকাল সোমবার ভোরে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় মঞ্চের শতাধিক চেয়ার, দুইটি টেবিল, ব্যানার ও বঙ্গবন্ধুর ছবি দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে বলে উদ্যোক্তারা অভিযোগ করেছেন। গণজাগরণ মঞ্চের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা আবুবাক্কার সিদ্দিক জানান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে গত রবিবার স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও তরুণদের উদ্যোগে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি করা হয়। ওইদিন বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠান হয়। পুলিশ জানায়, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।