জামায়াতের সঙ্গে গোপন সখ্যতা :সাতক্ষীরার ৩ ওসি প্রত্যাহার

গত ২৮ ফেব্রুয়ারী সাতক্ষীরায় জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে হামলা ও সংর্ঘষের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলাসহ নানাবিধ অনিয়ম-দুর্নীতি এবং জামায়াত নেতা-কর্মীদের সাথে গোপন সখ্যতা রাখার অভিযোগে সাতক্ষীরা সদর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ থানার ওসিকে এক যোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মেজবা উদ্দিনের এক আদেশে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীমকে চুয়াডাঙ্গা, আশাশুনি থানার ওসি এমদাদ হোসেনকে খুলনা এবং কালিগঞ্জ থানার ওসি আলী আহম্মেদ মাসুদকে যশোর জেলায় বদলি করা হয়েছে। সাতক্ষীরা গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর আমান উল্লাহ আমানকে সদর থানার ওসি হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আশাশুনি ও কালিগঞ্জ থানায় এখনো কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত-শিবির কর্মীরা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা প্রভাষক মামুন হোসেনের বাড়ীসহ শতাধিক বাড়ী ও দোকানপাট ভাঙচুর করে। প্রভাষক মামুন বাঁচার জন্য বার বার মোবাইলে সদর থানার ওসি ইব্রাহীমকে ফোন করলেও ওসি এগিয়ে আসেননি। পরে জামায়াত-শিবিরের হামলায় প্রভাষক মামুন ও যুবলীগ কর্মী শাহিন আলম নিহত হন। এসময় বিজিবি ও পুলিশের সাথে জামায়াত-শিবিরের দফায় দফায় সংর্ঘষে ও গুলিতে জামায়াত-শিবিরের ৫ কর্মী নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়। এদিকে এ ঘটনার এক দিন পর ২ মার্চ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদসহ সংখ্যালঘু পরিবারের দোকান-পাট ভাঙচুর করে। এসব ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন আশাশুনি থানায় মামলা করতে গেলে তার কাছ থেকে ওসি এমদাদ হোসেন ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।