রাজনৈতিক সহিংসতা
বিদেশি ক্রেতাদের
আস্থা নষ্ট করছে
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০১৩, ২২:২০
হরতালসহ চলমান সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশে অর্ডার দেবে কি না তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছেন। চুক্তিবদ্ধ সময়ের মধ্যে (লিড টাইম) রপ্তানি করতে না পারলে ক্রয় আদেশ বাতিলের হুমকি দিচ্ছেন। এটি বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের আস্থা কমার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। এ অবস্থায় হরতালের বিকল্প উপায় বের করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এ দুটি সংগঠন। গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
এতে বলা হয়, পোশাক শিল্প হরতালের আওতামুক্ত হলেও এ শিল্পের বাস্তবতা হচ্ছে, একটি অর্ডার সম্পন্ন করতে বস্ত্র কারখানা, এক্সেসরিজ, ওয়াশিং, ডাইং, প্রিন্টিং, প্যাকেজিংসহ সহযোগী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়। কাঁচামাল বন্দর থেকে আনা ও উত্পাদিত পণ্য বন্দরে পৌঁছাতে হয়। তাই যেকোন সামান্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী কার্যক্রমই এ শিল্পের জন্য ক্ষতিকর। এক ঘন্টা বিলম্বের জন্য যদি তৈরি পোশাক জাহাজীকরণ করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে ক্রেতার সাথে চুক্তি অনুযায়ী ডিসকাউন্ট, বিমানযোগে পাঠানো, অর্ডার বাতিল এমনকি অর্থ প্রাপ্তিও (ক্রেতার কাছ থেকে) পিছিয়ে যায়। ফলস্বরূপ উদ্যোক্তাকে লোকসানের বোঝা বইতে হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন হরতালের কারণে এ শিল্পের অনেক উদ্যোক্তাই সমুদ্রপথে পণ্যের জাহাজীকরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ লীড টাইম মোকাবিলার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে আকাশপথে পণ্য রপ্তানি করছেন। আবার কিছু উদ্যোক্তা ইতিমধ্যেই স্টকলট পরিস্থিতির (অর্ডার বাতিল হওয়া উত্পাদিত পণ্য) সম্মুখীন হয়েছেন।
পোশাক খাতের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এভাবে ঘন ঘন হরতাল আহবান করা হলে বেসরকারি খাতে সর্ববৃহত্ কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী পোশাক শিল্পের অস্তিত্ব ধরে রাখা সম্ভব হবে না।