ক্রীড়া ক্ষেত্রে কিশোর-তরুণদের অদম্য অগ্রযাত্রা

বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক (অনূর্ধ্ব-১৯) গোল্ডকাপ ফুটবলে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হইয়াছে। অবশ্য সুপার সাইক্লোন ফণীর কারণে ফাইনাল খেলাটি বাতিল হইয়া যায় এবং বাংলাদেশ ও লাওসকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য যে, প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এই ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ছাড়াও লাওস, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, মঙ্গোলিয়া এবং আরব আমিরাত অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের মেয়েরা অপরাজিত থাকিয়া ফাইনালে ওঠে। ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েদের এই উত্থান যে আকস্মিক নহে— তাহার সপক্ষে দৃষ্টান্তের অভাব নাই। সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হিসাবে বাংলাদেশের নারী ফুটবলার মনিকা চাকমার নামটি উল্লেখ করা যায় গর্বের সহিত। ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভক্তদের পাঠানো সেরা ৫টি মুহূর্তের তালিকায় বাংলাদেশের এই নারী ফুটবলারের নাম উঠিয়া আসিয়াছে। উল্লেখ্য যে, সদ্য সমাপ্ত বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে বিরতির আগ মুহূর্তে ইনজুরি টাইমে মনিকার চোখধাঁধানো এক গোলে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে লিড পায় বাংলাদেশ। বিশ্বমানের এই গোলটির জন্য রাঙ্গামাটির এই ফুটবল-কন্যাকে ‘ম্যাজিক্যাল চাকমা’ খেতাবও দিয়াছে ফিফা। আমাদের মেয়েরা  যে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধারাবাহিকভাবে চমক দেখাইয়া আসিতেছে তাহা সুবিদিত। তাত্পর্যপূর্ণ দিক হইল, তাহাদের বেশিরভাগই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল হইতে উঠিয়া আসা দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাহারা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করিয়াছে যে, উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা ও যথাযথ পরিচর্যা পাইলে তাহাদের পক্ষে কোনো কিছুই অসম্ভব  নহে।

আমাদের শিশু-কিশোর-তরুণদের লইয়া প্রবীণদের যত আক্ষেপই থাকুক না কেন, বাস্তবতা হইল খেলাধুলার প্রতি তাহাদের আকর্ষণ দুর্বার। গ্রামে-গঞ্জে ফুটবল-ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বলিতে গেলে ঈর্ষণীয় পর্যায়ের। অথচ চাহিদার তুলনায় সুযোগ-সুবিধা নাই বলিলেই চলে। অধিকাংশ স্কুল-কলেজে খেলিবার মতো মাঠই নাই। নাই প্রশিক্ষক। সরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয়গুলিতে খেলাধুলার কিছু সামগ্রী বিতরণ করা হয় বটে, তবে তাহা চাহিদার তুলনায় একেবারেই নগণ্য; কিন্তু আমাদের কিশোর-তরুণেরা সব বাধাবিপত্তি অগ্রাহ্য করিয়া জাতীয় পরিসরে তো বটেই, আন্তর্জাতিক পরিসরেও ক্রমাগত নিজেদের প্রমাণ করিয়া চলিয়াছে। ক্রিকেটে ও ফুটবলে তাহার উদাহরণ একেবারে কম নহে। বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জের সহিত যাহাদের যিকঞ্চিত্ যোগাযোগ আছে তাহারা জানেন, ফসলের কর্দমাক্ত খেতে নামমাত্র সরঞ্জামকে সম্বল করিয়াই তাহারা ক্রিকেট কিংবা ফুটবল অনুশীলন করিয়া চলিয়াছে। আশার কথা হইল খেলাধুলার প্রসারে সরকারের সদিচ্ছার অভাব নাই। ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হইয়াছে। পাশাপাশি সরকারের বহু প্রতিষ্ঠানও রহিয়াছে। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়াইয়া ছিটাইয়া থাকা এইসকল অমিত সম্ভাবনাময় প্রতিভাকে খুঁজিয়া বাহির করার দায়িত্ব যেমন তাহাদের লইতে হইবে, তেমনি তাহাদের উপযুক্ত সহায়তা এবং সমর্থনও দিয়া যাইতে হইবে অব্যাহতভাবে। পাশাপাশি আমাদের বেসরকারি খাতকেও সহায়তার হাত প্রসারিত করিতে হইবে। তাহাদের হাতও কম মজবুত নহে তাহা কে না জানে!